গত বছর মাটি উৎসবে ঝিঙ্গুটির সাই কমপ্লেক্সের মাঠ ভরাতে বিডিওদের লোক জোগাড় করার দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। এ বারও ভরসা তাঁরাই। শুধু রাজ্য থেকে সরাসরি নয়, নির্দেশটা এসেছে জেলা থেকে। লোক আসা-যাওয়ার বাসভাড়াও দেবে জেলা।
আজ মঙ্গলবার বর্ধমান লাগোয়া সাধনপুর কৃষি খামারে মাটি উৎসবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মাঠ-মঞ্চ যাতে ভিড়ে ভিড়াক্কার হয়, জেলা, মহকুমার হাত ঘুরে সে দায়িত্ব পেয়েছেন বিডিওরা। বিডিওরা আবার দায়িত্ব দিয়েছেন পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানদের। গত বার পানাগড়ের বিরুডিহাতেও এভাবেই লোক আনা হয়েছিল। আসার জন্য মাথা পিছু টাকাও মিলেছিল। তবে এ বার আর হাতে টাকা নয়, বাসভাড়া দেবে জেলা। সঙ্গে জলখাবারের ব্যবস্থাও করবেন বিডিওরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ৫০ হাজার লোক আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০০ বাস ও হাজার খানেক গাড়ি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সাধনপুরের কৃষি খামার থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার কাছে ৫০০ বাস রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক এসএমএস করেছে মহকুমাশাসকদের লোক জড়ো করার বিষয়টি জানিয়েছেন। সেই এসএমএস পাঠানো হয়েছে বিডিওদের। তারপর আলোচনায় বসে ঠিক করা হয়েছে, কোন ব্লক কত লোক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাজির থাকবে। বিডিও-রা আবার সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানদের কাছে। জানা গিয়েছে, বর্ধমান (দক্ষিণ) মহকুমার প্রতিটি ব্লক থেকে পাঁচ হাজার, বর্ধমান ১ ও ২, ভাতার ব্লক থেকে পাঁচ হাজার করে লোক আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাটোয়া ও কালনা মহকুমা থেকে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন জেলার কর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু বিডিও তো বলেই ফেললেন, “আমরা লোক কোথায় পাব? আমাদের কথায় বাসই বা কে দেবে? স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের শাসক দলের নেতাদের উপর ভরসা করতে হয়েছে।”
কর্মকাণ্ড দেখে বিরোধীদের কটাক্ষ, এক দিনে জেলা থেকে এক সঙ্গে বিভিন্ন রুটে ৫০০ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পরিবহণ ব্যবস্থাটাই তো থমকে যাবে। দুর্ভোগে পড়বেন জেলার হাজার হাজার যাত্রী। সিপিএমের বর্ধমান জেলার সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক বলেন, “আমাদের সময়েও নানা সভা হয়েছে। কিন্তু এ ভাবে পরিবহণ ব্যবস্থাকে থমকে রেখে হয়নি। জনগণের টাকায় উৎসব করে মানুষকে সব দিক দিয়ে অসুবিধায় ফেলা হচ্ছে।” যদিও বর্ধমান শহর তৃণমূলের সভাপতি অরূপ দাসের পাল্টা জবাব, “শহরকে স্তব্ধ করে সিপিএম কী করেছে তা জেলার মানুষ ভালই জানেন। এখন অনেক সুন্দর ও পরিকল্পনা মাফিক সভা হচ্ছে বলে মানুষের কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।”