শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গে আরাবুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কার্যত এক আসনে বসিয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ‘নাক’-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে এ বার এক আসনে বসল, ওই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক যে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি, সেই ভাঙড় কলেজ এবং রবীন্দ্রনাথের সাধের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়!
সোমবার ‘ন্যাশনাল আ্যসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’-এর (নাক) ওয়েবসাইটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ফলে দেখা যাচ্ছে, আরাবুলের ভাঙড় কলেজ পেয়েছে ‘বি’ গ্রেড। একই গ্রেড জুটেছে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীও। প্রসঙ্গত, এই প্রথম নাক এই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন করেছে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের এমন ফল রাজ্যের শিক্ষা মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ গ্রেড রয়েছে। নানা জেলার বেশ কিছু কলেজও ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।
কেন এমন ফল হল? উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের সঙ্গে এ দিন ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। সহ-উপাচার্য স্বপন দত্ত বলেন, ‘‘অনেকের মতো আমিও এই ফলে হতাশ। ‘নাক’-এর রিপোর্ট এবং সুপারিশ খতিয়ে দেখে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’’
তবে বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, গবেষণাগারের পরিকাঠামো, হস্টেলের নিরাপত্তা, শিক্ষকের অভাব, হিসাব রাখার ব্যবস্থায় গলদ, এমন নানা বিষয়ে ত্রুটি পেয়েছে ‘নাক।’ তবে কর্তৃপক্ষের একাংশ মনে করছেন, যে ভাবে শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশ বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ‘নাক’ সদস্যদের কাছে দরবার করেছেন, তাতে বিশ্বভারতীরই ক্ষতি হয়েছে।
এই আশঙ্কা অবশ্য ছিলই। ‘নাক’-এর প্রতিনিধিদল শান্তিনিকেতনে আসার আগেই বিশ্বভারতীর কর্মসচিব ডি গুণশেখরনের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তাতে বলা হয়, ‘নাক’-এর প্রতিনিধিদের সামনে বিশ্বভারতীর কোনও কর্মী, অধ্যাপক বা পড়ুয়া যেন ক্ষোভের কথা প্রকাশ না করেন। তাতেও শেষরক্ষা হল না।
বিশ্বভারতীর আমন্ত্রণে গত ২৭ এপ্রিল ‘নাক’-এর১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনে আসেন। দিন দুয়েক ধরে সব ঘুরে দেখে, ভরত চাটটুর নেতৃত্বে নাক-এর ওই প্রতিনিধিদল উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তকে একটি গোপন রিপোর্টও দেন। বুধবার ‘নাক’ ওয়েবসাইটে বিশ্বভারতীর মূল্যায়ন প্রকাশ হয়েছে।