Advertisement
E-Paper

রাজ্যে এসেও মমতা নিয়ে নীরব অমিত শাহ

অনেক টালবাহানার পর দলীয় সভায় যোগ দিতে শেষমেশ বুধবার কলকাতায় এলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু বুড়ি ছুঁয়েই চলে গেলেন। শুধু কি তাই! বিধানসভা ভোটের আগে যে অমিতের বক্তৃতা শুনে বিজেপি কর্মীরা উজ্জীবিত হতেন, তাঁর কথায় সেই ঝাঁঝটাই রাতারাতি উধাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০১৬ ০২:৫৪
মহাজাতি সদনে অমিত শাহ। বুধবার। — নিজস্ব চিত্র।

মহাজাতি সদনে অমিত শাহ। বুধবার। — নিজস্ব চিত্র।

অনেক টালবাহানার পর দলীয় সভায় যোগ দিতে শেষমেশ বুধবার কলকাতায় এলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু বুড়ি ছুঁয়েই চলে গেলেন। শুধু কি তাই! বিধানসভা ভোটের আগে যে অমিতের বক্তৃতা শুনে বিজেপি কর্মীরা উজ্জীবিত হতেন, তাঁর কথায় সেই ঝাঁঝটাই রাতারাতি উধাও। রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করতে গিয়ে জেলায় জেলায় দলীয় কর্মীরা যখন শাসক দলের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন দিদি-বিরোধী কোনও সমালোচনাই এ দিন শোনা গেল না বিজেপি সভাপতির গলায়!

কী বললেন অমিত শাহ?

তাঁর বক্তৃতার নির্যাস হল, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে তিন জন বিধায়ক পেয়েছে বিজেপি। এর উপর দাঁড়িয়েই আগামী পঞ্চায়েত, লোকসভা এবং তার পর ফের বিধানসভা ভোটে রাজ্য জয় করতে এগোবে দল। তাঁর যুক্তি, গুজরাতে প্রথম বার বিজেপি-র সরকার হওয়ার আগে সেখানে দল ৭% ভোট পেয়েছিল। একই ভাবে কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে সরকার হওয়ার আগে প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৮% এবং ৫%। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে এ বার ১০% ভোট পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অমিতের কথায়, ‘‘২০১১-র তুলনায় এ বার বিজেপি-র ভোটের হার বেড়েছে আড়াই গুণ। ৯০টি আসনে আমরা ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি। উত্তরবঙ্গে ২০% ভোট পেয়েছে দল। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, পরের ভোটে আমাদের দল সরকারের ঘুম কাড়বে।’’

সন্দেহ নেই, দলের সর্বভারতীয় সভাপতির কাছে শুধু এই সাত-পাঁচ পরিসংখ্যান শুনতে চাননি দলের কর্মী সমর্থকরা। বরং প্রত্যাশা ছিল, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাজ্যে বিরোধীদের জন্য যে কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার পথ দেখাবেন তিনি। শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজ্য বিজেপি-কে আরও আগ্রাসী আন্দোলনের জন্য চালিত করবেন। কিন্তু সে সব না-হওয়ায় ঈষৎ হতাশা নিয়েই এ দিন ঘরে ফিরেছেন তাঁরা। অনেকেরই খেদ, সভাপতিই বলছেন, রাজনৈতিক হিংসার জন্য এখানে ভোটের হার বাড়ানোর কাজটা কঠিন। অথচ যারা হিংসাত্মক আক্রমণ করছে, সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তিনি কোনও কথা বললেন না!

প্রশ্ন হল, তা কেন করলেন না বিজেপি সভাপতি?

দলের একাধিক রাজ্য নেতার মতে, প্রথমত এ দিন সংসদে জিএসটি বিল পেশ করেছে মোদী সরকার। তৃণমূল তাতে সমর্থন দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জিএসটি বিল পাশ করানোর তাগিদে তৃণমূলকে আক্রমণ থেকে বিরত থেকেছেন অমিত। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বিজেপি সভাপতি সামান্যতম সমালোচনা করলে তার প্রভাব পড়তে পারে সংসদে ভোটাভুটির অঙ্কে। দ্বিতীয়ত, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর শূন্য আসনে অমিতের নজর রয়েছে। সেখানে তিনি নিজে বসতে না পারলেও নিজের কোনও অনুগামীকে বসিয়ে গুজরাতের ক্ষমতার রাশ হাতে রাখতে চান। কলকাতায় এ দিন বুড়ি ছুঁয়ে আজ সকালেই তাঁর আমদাবাদে পৌঁছনোর কথা। সেই নিয়ে বেশি চিন্তিত বলেই অমিত এ দিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে পারেননি। সর্বোপরি সর্বভারতীয় বিজেপি-র অগ্রাধিকারের তালিকায় এখন পশ্চিমবঙ্গ নেই। আপাতত তাঁরা উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের নির্বাচন নিয়েই চিন্তিত। তাই এখনই মমতার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক না হয়ে বরং দিলীপ ঘোষদের সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন অমিত। সেই সঙ্গে দলে গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধের জন্য এ দিন সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

প্রসঙ্গত, বিজেপি-র প্রদেশ পরিষদের সম্মেলনে যোগ দিতে অমিত শাহের কলকাতায় আসার কথা ছিল গত ১৭ জুলাই। সে বার শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল হয়। এ বারও তাঁর সফর ছিল অনিশ্চিত। প্রথমে ঠিক ছিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এসে দলের কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পর দিন সম্মেলনে বক্তৃতা করে চলে যাবেন। কিন্তু গুজরাতের ঘটনার কারণে তিনি মঙ্গলবারের কর্মসূচি বাতিল করেন। এ দিনও বারবার সফরসূচি বদলে শেষ পর্যন্ত দুপুর সওয়া তিনটেয় মহাজাতি সদনে দলীয় সভায় ঢোকেন তিনি। শহর ছাড়েন সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy