Advertisement
E-Paper

রেল পোর্টালে নালিশের বন্যা

ট্রেনে যাত্রীদের খাবারের দাম কত হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে দেয় রেল। কিন্তু সম্প্রতি আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করার সময় একেবারে অন্য এক অভিজ্ঞতা হয় খড়দহের বাসিন্দা আনন্দ রায়ের। তিনি দেখেন, ওই ট্রেনে যাত্রীদের কাছে চা থেকে শুরু করে দুপুরের মিল, সবই রেলের নির্ধারিত দামের থেকে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:২১

ট্রেনে যাত্রীদের খাবারের দাম কত হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে দেয় রেল। কিন্তু সম্প্রতি আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করার সময় একেবারে অন্য এক অভিজ্ঞতা হয় খড়দহের বাসিন্দা আনন্দ রায়ের। তিনি দেখেন, ওই ট্রেনে যাত্রীদের কাছে চা থেকে শুরু করে দুপুরের মিল, সবই রেলের নির্ধারিত দামের থেকে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন আনন্দবাবু। ওই ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক থেকে শুরু করে জিআরপি এমনকী আরপিএফের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু কেউই তাতে আমল না দেওয়ায় পরে ফিরে এসে তিনি রেলের ‘ওয়েব কমপ্লেন সাজেশন পোর্টাল’-এ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার এক মাস পর রেলের তরফে তাঁকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ওই ভেন্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকে সর্তক করে ১০ হাজার টাকা ফাইন করা হয়েছে।

ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ তো আছেই। সঙ্গে রয়েছে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে নানা অভিযোগও। কিন্তু যাত্রীরা বেশির ভাগ সময়ই সেই সব অভিযোগ জানানোর জায়গা খুঁজে পান না। এমনকী গার্ডের কাছে রাখা ‘কমপ্লেন বুক’ও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যা না বলে অভিযোগ বেশির ভাগ যাত্রীর। বিষয়টি নিয়ে আগে যাত্রীরা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন অনেক বার। আর তার পরেই রেল কর্তৃপক্ষ একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করেন। যাতে ওই পোর্টালের মাধ্যমে যাত্রীরা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারেন। আনন্দবাবুর অভিযোগ ওই পোর্টালেই জমা পড়ছিল।

Advertisement

তবে শুধু আনন্দবাবুই নন, ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং ও ট্যুরিজিম কর্পোরেশন’ (আইআরসিটিসি) সূত্রে খবর, পুজোর মধ্যে ওই পোর্টাল মারফত যাত্রীদের খারাপ খাবার পরিবেশন করার অভিযোগ পেয়ে শিয়ালদহ-আনন্দবিহার এক্সপ্রেস ট্রেনের প্যান্ট্রির ভেন্ডারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে জরিমানা করা হয়েছে এক লক্ষ টাকা। ঘটনার পর থেকে ওই ট্রেনের খাওয়া-দাওয়ার

দায়িত্ব আইআরসিটিসি নিজের হাতেই তুলে নিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৭ মাসে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন ট্রেনে খাবারের মান নিয়ে প্রায় ৭০টি অভিযোগ জমা পড়ছে। তার মধ্যে ৫০টি ক্ষেত্রে ভেন্ডারদের জরিমানা করা হয়েছে। টাকার অঙ্কে ওই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। তবে আইআরসিটিসি-র কর্তারা জানিয়েছেন, সব সময়ই যে সবাই খাবার নিয়ে অভিযোগ তুলছেন, এমনটা নয়। তাঁদের বক্তব্য, হয়তো ট্রেনের কোনও কামরার দু’-তিন জন অভিযোগ জানান। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের খাবার পাল্টিয়েও দেওয়া হয়। পোর্টালে অভিযোগ পেলেও চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন

রেল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy