ভোটের লড়াই জমার আগেই মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের খাস তালুক বিষ্ণুপুরে এসে খোঁচা দিয়ে গেলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ডে বাঁকুড়া জেলা কংগ্রেসের ডাকা জনসভায় সারদা-কাণ্ডে শ্যামকে ইডির ডাকা প্রসঙ্গ উস্কে দিলেন তিনি। সভার জায়গা তেমন বড় না হলেও কর্মী-সমর্থকদের ঠাসা ভিড় দেখেন খুশি প্রদেশ সভাপতি।
এই শহরের পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদবাবু দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন। দলের জেলা সভাপতির দায়িত্বও তিনি সামলেছেন। কয়েকবছর আগে দল বদলে তিনি এখন তৃণমূলের মন্ত্রী। তৃণমূলের পুরপ্রধানও বটে। সেই শ্যামবাবুকে খোঁচা দিয়ে অধীর বলেন, ‘‘মন্দির শহর হিসেবে সারা পৃথিবী বিষ্ণুপুরকে জানে। এখানকার শ্যামরাই মন্দির বিখ্যাত। ইদানীং হয়েছে শ্যাম-সারদার যুগল মিলন। যা অনেক প্রশ্ন তৈরি করেছে।’’ শ্যামবাবু এই শহরের সাতবারের পুরপ্রধান। অথচ তাঁর সময়েই ‘‘এই রাজাদের শহর প্রোমোটারদের বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে’’ বলেও কটাক্ষ করেছেন অধীরবাবু।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি রাহুল সিংহ বা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বিষ্ণুপুরে এসে সভা করলেও শ্যামবাবুর নাম সারদায় জড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। দলের এক সময়ের ‘সতীর্থ’ শ্যামবাবু সম্পর্কে অধীরবাবু যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন সভাস্থলে তুমুল হাততালি পড়েছে।
প্রসঙ্গত, শ্যামবাবু গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে জেলা সভাপতির পদ পেয়েছিলেন। পরে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী হয়ে মমতার মন্ত্রিসভায় প্রথমে আবাসন, পরে শিশুকল্যাণ ও বর্তমানে বস্ত্র মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের কাছে একটি সিমেন্ট কারখানা কেনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়ে একাধিকবার ইডির ডাক পান শ্যামবাবু। ঘটনাটিকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বও। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য এতদিন তেমন হইচই ছিল না। কিন্তু অধীরবাবু বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে ওই বিষয়টি উস্কে দিয়ে গেলেন। এ নিয়ে রাতে শ্যামবাবু কটাক্ষ করেন, ‘‘উনি তাঁর মতো বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলছি না। তবে আমার বিরুদ্ধে কিছু বলার আগে, তাঁকে নিয়ে যে সব অভিযোগ রয়েছে, তিনি বরং সে সব নিয়ে ভাবুন।’’
বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান শ্যামবাবু। অথচ এই শহরের বিভিন্ন ঢিলা কেটে কখনও বা জলা কিংবা যমুনা বাঁধের একাংশ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে। এমনও শোনা গিয়েছে, সব জেনেও পুরকর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। সেই প্রসঙ্গও উস্কে দিয়েছেন অধীরবাবু।
সারদা-কাণ্ড প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রোজভ্যালি নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কামান দেগেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। অধীরবাবু বলেন, ‘এ রকম একটি সংস্থাকে কলকাতা কর্পোরেশন লাইসেন্স দিয়েছে। সবই ফেলো কড়ি মাখো তেলের ব্যাপার।’’
এ দিন এই সভায় শুধু বিষ্ণুপুর নয়, মেজিয়া, রাইপুর, সোনামুখী, কোতুলপুর ইত্যাদি এলাকা থেকেও ভিড় জমিয়েছিলেন কংগ্রেস কর্মীরা। যদিও বাঁকুড়া জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘প্রায় দশ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এ দিনের সভায়।’’ পুলিশ জানিয়েছে, দেড় হাজারের কাছাকাছি লোক সমাগম হয়েছিল। আর এই ভিড় দেখে স্বয়ং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি স্বীকার করেন, ‘‘বাঁকুড়ায় আমাদের দলের অবস্থা মরুভূমির মতো। সেখানে যে এত মানুষের সমাবেশ হয়েছে তা বেশ উৎসাহ ব্যাঞ্জক।’’