Advertisement
E-Paper

সংখ্যালঘু-প্রশ্নে এক সুর সেলিম-অধীরের

অল্পের জন্য এক মঞ্চে হল না ঠিকই। কিন্তু অনশনকারী মাদ্রাসা শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে বুধবার একই সুরে সংখ্যালঘুদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন সিপিএম ও কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহম্মদ সেলিম ও অধীর চৌধুরী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০৪:২৪

অল্পের জন্য এক মঞ্চে হল না ঠিকই। কিন্তু অনশনকারী মাদ্রাসা শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে বুধবার একই সুরে সংখ্যালঘুদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন সিপিএম ও কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহম্মদ সেলিম ও অধীর চৌধুরী।

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন, ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিল এবং মাদ্রাসার স্বীকৃতির দাবিতে হাজি মহসিন স্কোয়ারে ‘আন-এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটি’র অনশন ৫৬ দিনে পড়ল। অনশনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এ দিন সেলিম প্রশ্ন তোলেন, সংখ্যালঘু উন্নয়নের টাকায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা না করে কেন রাজ্য সরকার উৎসব-অনুষ্ঠানে খরচ করছে? একের পর এক উৎসব, মেলায় রাজ্য সরকার টাকা ‘অপচয়’ করছে বলে অভিযোগ করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরও। সেলিম সরাসরিই মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বলেন, ‘‘রাজ্যের তথ্য-সংস্কৃতি দফতর ১০০ কোটি টাকা খরচ করে চলচ্চিত্রোৎসব করে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনে আম্বানিদের এনে ইকো-পার্কে পার্টি হয়! তা হলে গুলাম আলির অনুষ্ঠানও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর করতে পারত! সংখ্যালঘু উন্নয়নের টাকায় এ ভাবে অনুষ্ঠান হবে কেন?’’ তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘‘সংখ্যালঘু দফতরের টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার কি বোঝাতে চাইল গুলাম আলির ভক্ত শুধুই সংখ্যালঘুরা? অন্য কেউ নন?’’

অনশন-মঞ্চ ছেড়ে সেলিম বেরিয়ে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই সেখানে পৌঁছন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। অধীরও প্রশ্ন তোলেন, ‘‘শিল্পমেলায় তিন দিনে ২৫ কোটি টাকা খরচ করলেন দিদিভাই! হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকদের হোটেলে এনে রাখলেন, খাওয়ালেন। কিন্তু সংখ্যালঘু পরিবারের অনাথ, গরিব ছেলেমেয়েদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না?’’

গত বিধানসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের দেওয়া মমতার সব প্রতিশ্রুতিই ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে কটাক্ষ করেন সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত দুই জেলার এই দুই সাংসদ। একই সঙ্গে অর্থলগ্নি সংস্থায় জড়িত তৃণমূল নেতাদের বাঁচাতে মমতা কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন বলে অধীরের অভিযোগ। তাঁর পরামর্শ, ‘‘নাটক, গান, যাত্রায় যে টাকা আপনি খরচ করছেন, তার একটা অংশ দিয়ে কি মাদ্রাসার শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো যায় না?’’ প্রসঙ্গত, বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও এ দিন কটাক্ষ করেছেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করতে চাইলে তার জন্য উপযুক্ত প্রকল্প নিতে হয়। জলসা করে তো আর উন্নয়ন হয় না! আসলে এটা করা হয়েছে সংখ্যালঘুদের বিশেষ বার্তা দেওয়ার জন্য।’’ যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা বক্তব্য, ‘অসহিষ্ণুতা’র প্রতিবাদে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিরোধীরা অযথা জলঘোলা করছে!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy