দু’দিনের ব্যবধানে ফের প্রতারণা চক্রের সন্ধান মিলল রাজ্যে।
শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যেই এমবিবিএস পাঠ্যক্রমে ভুয়ো ভর্তি-চক্রের সন্ধান মিলেছিল। রবিবার বহরমপুরে সামনে এল সেনাবাহিনীর কনস্টেবল পদ-সহ নানা সরকারি চাকরি জুটিয়ে দেওয়ার প্রতারণা চক্র। বহরমপুর সেনাবাহিনী নিয়োগ কেন্দ্রের আধিকারিকদের তৎপরতায় ওই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এ দিন সকালে স্থানীয় একটি হোটেল থেকে প্রতারণা চক্রের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুরের পঞ্চাননতলা মোড়ের কাছে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের তিন-তলা কার্যালয় রয়েছে। ওই নিয়োগ কেন্দ্রের সুবেদার মেজর সিভিআর রেড্ডি এ দিন সকালে দেখতে পান, নিয়োগ কেন্দ্রের বাইরের দেওয়ালে সেনাবাহিনীর কনস্টেবল পদে নিয়োগ সংক্রান্ত দু’টি কাগজ সাঁটানো রয়েছে। তাতে ৫১ জনের নামের তালিকা। তালিকার নীচে ‘আগামী ৪ নভেম্বর শারীরিক পরীক্ষা’ হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তালিকা ঘিরে কিছু যুবকের ভিড় দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। কারণ ওই নিয়োগ আগেই হয়ে গিয়েছিল। তিনি নিয়োগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্নেল অনিল পণ্ডিতকে তা জানান। অনিলবাবু ওই যুবকদের তিন জনকে ডেকে জেরা করতেই জালিয়াতি চক্রের খোঁজ মেলে।
ওই যুবকদের থেকে অনিলবাবু জানতে পারেন, প্রতারণা চক্রের পাঁচ জন সেনা কার্যালয়ের কাছের একটি হোটেলে রয়েছে। তাদের খোঁজ চালানো হয়। অভিযুক্তদের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পুলিশ সুপারকে খবর দেন অনিলবাবু। পুলিশ গিয়ে মিন্টু শেখ, আকমল শেখ, আর্জেত শেখ, ইকবাল মল্লিক ও ইমরান শেখ নামে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবি, চক্রের পাণ্ডা মিন্টু। তার বাড়ি বর্ধমানের কেতুগ্রামে। বাকি চার জনের মধ্যে আর্জেত নদিয়ার কালীগঞ্জের আর বাকি তিন জন মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, শক্তিপুর ও গজধরপাড়ার বাসিন্দা। টেট-এসএসসি, সেনাবাহিনী, সিআইএসএফ, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছে চক্রটি।
পুলিশ সুপার সি সুধাকর জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও সরকারি নথি জাল করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে দু’ব্যাগ ভর্তি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের আসল শংসাপত্র মিলেছে।
তিনি বলেন, ‘‘চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার যাবতীয় হিসেব লেখা ডায়েরিও উদ্ধার হয়েছে।’’
কর্নেল অনিল পণ্ডিত জানান, কাগজ সাঁটিয়ে কনস্টেবল পদে যে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে, সেই পরীক্ষা গত ৩১ মে শেষ হয়ে গিয়েছে। সফল প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণে চলে গিয়েছেন। রবিবার সেনাবাহিনীর নিয়োগ দফতর বন্ধ থাকে। তা জেনেবুঝেই প্রতারণা চক্রটি দিনটি বেছে নেয় বলে তাঁর অনুমান।
চাকরি-প্রার্থীদের অনেকে জানিয়েছেন, ওই নিয়োগ কেন্দ্রের অফিসের সামনেই প্রতারণা চক্রের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের আলাপ হয়। কনস্টেবল পদে চাকরির জন্যে চার লক্ষ টাকায় রফা হয়। এক যুবকের কথায়, ‘‘সকালে ফোনে নিয়োগ কেন্দ্রে গিয়ে তালিকা দেখে আসতে বলা হয়। পরে হোটেলের ঠিকানায় টাকা নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু পুরোটাই যে ভাঁওতা বুঝতে পারিনি।’’
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে প্রতারণার ঘটনায় হাসপাতালেরই দুই চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এ ক্ষেত্রেও নিয়োগ কেন্দ্রের ভিতরের কেউ প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিয়োগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্নেল।