Advertisement
E-Paper

সপ্তাহ কাটলেও সামসির তদন্ত সেই তিমিরে

সপ্তাহ কেটে গেল, সামসির তিন বালিকাকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় এক পা-ও এগোতে পারেনি পুলিশ। দেখা মেলেনি শিশু সুরক্ষা কল্যাণ সমিতির কর্তাব্যক্তিদেরও। ফলে শুধু তিন বালিকার পরিবারই নয়, আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:২০

সপ্তাহ কেটে গেল, সামসির তিন বালিকাকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় এক পা-ও এগোতে পারেনি পুলিশ। দেখা মেলেনি শিশু সুরক্ষা কল্যাণ সমিতির কর্তাব্যক্তিদেরও। ফলে শুধু তিন বালিকার পরিবারই নয়, আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। এর পর কার বাচ্চাকে কবে কে তুলে নিয়ে যায়, ভয়ে কাঁটা সকলেই! তদন্ত থেমে থাকার জন্য তাঁরা দায়ী করেছেন পুলিশের গা ছাড়া মনোভাবকেই। যার জবাবে চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীদের হদিস পেতে সব রকম চেষ্টা চলছে।’’

এর মধ্যে সোমবার বাড়ির লোকের কাছে নতুন তথ্য দিয়েছে কৃপা। সে দাবি করে, দুষ্কৃতীরা তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়েছিল, বেশি চেঁচামেচি গোলমাল বাধালে ওদের বাবা-মাকেও প্রাণে মেরে দেওয়া হতে পারে। তবে এর বেশি বিশেষ কিছু তারা কেউই বলতে পারছে না বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের বক্তব্য, তিন বালিকার কাছ থেকে শুধু জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের মধ্যে এক জন লম্বা, অন্য জন খাটো চেহারার। সেই সূত্র ধরে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চলছে বলে দাবি পুলিশের।

কিন্তু এলাকার সন্দেহভাজন দুষ্কৃতীদের কাউকে ডেকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না, এর জবাব কারও কাছে নেই। মেয়ে তিনটির পরিজনদের সূত্রে উল্টে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি আদৌ ঘটেছিল কি না, তাই নিয়ে পুলিশের একাংশেরই সন্দেহ রয়েছে। ফলে দুষ্কৃতীরা আদৌ ধরা পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পরিজনেরা।

বুধবার সন্ধেয় রোজকার মতো পড়তে যাওয়ার সময় স্টেশন লাগোয়া কুলিপাড়ার প্রিয়া, কৃপা ও ক্যাটরিনা চৌধুরীকে দুই দুষ্কৃতী অপহরণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। খুনের হুমকি দিয়ে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের নীচে পুকুরের ধারে একটি মাচায় হাত বেঁধে তাদের অন্ধকারে বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে বইয়ের ব্যাগ থেকে পেন্সিল কাটার ব্লেড দিয়ে প্রথমে নিজের ও পরে দুই বান্ধবীর হাতের বাঁধন কেটে ফেলে প্রিয়া। তার পরে তিন জনে পালিয়ে যায় সেখান থেকে। দুই দুষ্কৃতী ধাওয়া করলে রেল লাইন থেকে তুলে পাথর ছুড়তে থাকে তারা।

কিন্তু পুলিশ কেন সন্দিহান? পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে যে, যেখানে বালিকাদের হাতে দড়ি বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি, সেই ঘরটি তালাবন্ধ। তাদের আরও দাবি, ওই তিন বালিকা টিউশন ফাঁকি দিত। তাই ঘটনাটি বানিয়ে বলা— এমন দাবি করার সময় না এলেও সব দিক খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ। কোনও পুলিশকর্তাই অবশ্য এই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।

পুলিশের এই দাবির ঠিক উল্টো কথা বলেছেন তিন বালিকার শিক্ষিকা জ্যোতি চৌধুরী। তিনি জানান, ওরা তিন জনেই বেশ মেধাবী! সময় মতোই পড়তে আসত। ওরা ফাঁকি দেয়, এমন তথ্য পুলিশ কোথা থেকে পেল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তিন কন্যার পরিজনদের দাবি, ওই মাচার ঘরটি তালাবন্ধ থাকলেও সেটি খোলা অত্যন্ত সহজ ব্যাপার। পুকুর পাড়ে ওই ঘরটি মাছ-পাহারার জন্য তৈরি করেছিলেন মাছ ব্যবসায়ী হবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ওই ঘরটির এমন অবস্থা যে, তালা বন্ধ থাকলেও চারপাশ দিয়ে ঢোকা যায়। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলছিলেন, ‘‘পুলিশ এখন আমায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জায়গাটা আমার, তাতে আমার কী দোষ!’’ তবে মাচাটি যে অনেকদিন সংস্কার করা হয়নি তা তিনি মেনে নিয়েছেন।

প্রিয়ার বাবা কেদার চৌধুরী এ দিন বলেন, ‘‘আমরা গরিব মানুষ। কোথায় আর যাব! মেয়েদের এখন টিউশনে আর একা যেতে দিই না। সঙ্গে করে নিয়ে যাই।’’

জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকার যাবতীয় দায় ঠেলেছেন পুলিশের ঘাড়ে। তিনি বলেন, ‘‘ওই ঘটনা উদ্বেগের। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সরকারও সচেষ্ট। যে অন্যায় করবে সে তো আর সহজে ধরা দেবে না। সূত্র জোগাড় করে তাদের ধরা পুলিশের কাজ।’’

এই নিয়েও মুখ খোলেননি পুলিশকর্তারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy