Advertisement
E-Paper

নির্বোধের মতো কাজ করলে আর গরুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না! ‘ভেরোনিকা’ প্রমাণ করে দিল বোধবুদ্ধি আছে ওদেরও

কোনও সরঞ্জাম নিজেদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে পারে গরুরা। এত দিন তা জানতেনই না বিজ্ঞানীরা। এমন কোনও প্রমাণ্য দলিলও ছিল না তাঁদের কাছে। এ বার সেই ভ্রান্তি কাটাল ভেরোনিকা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৬
গরুদেরও ‘বোধবুদ্ধি’ রয়েছে। জানা গেল নতুন গবেষণায়।

গরুদেরও ‘বোধবুদ্ধি’ রয়েছে। জানা গেল নতুন গবেষণায়। — প্রতীকী চিত্র।

কেউ নির্বোধের মতো কাজ করলে, প্রায়শই গরুর সঙ্গে তুলনা টানতে দেখা যায়। কিন্তু এই তুলনা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। প্রশ্ন তুলে দিল এক গরুই। বুঝিয়ে দিল, সে মোটেই ‘নির্বোধ’ নয়। বরং, তার মধ্যেও রয়েছে উদ্ভাবনী শক্তি। বিভিন্ন সরঞ্জামকে নিজেদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে সে জানে!

অস্ট্রিয়ার এক ছোট শহর নট্‌শইম গেইলটাল। রাজধানী ভিয়েনা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত এক শহর। ইতালির সীমান্ত লাগোয়া সেই শহরেই এক খামারে প্রায় বছর দশেক ধরে রয়েছে ভেরোনিকা। ‘ব্রাউন সুইস’ প্রজাতির গরু। ‘আমেরিকান ব্রাউন সুইস’ নামেও পরিচিত এই প্রজাতি। সম্প্রতি ভেরোনিকার কিছু ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মুখ দিয়ে লাঠি তুলে তা দিয়ে পিঠ চুলকাচ্ছে ভেরোনিকা। বেশ দক্ষ ভাবেই তা করছে সে। বুঝিয়ে দিচ্ছে, তার মুখ শুধু জাবর কাটার জন্যই নয়, অন্য কাজেও দিব্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভেরোনিকার এই ভিডিয়ো নজরে আসে ভিয়েনার পশু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আন্তোনিও জে ওসুনা-মাসকারোর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ওই গরুর আচরণ আরও বিশ্লেষণ করে দেখেন। তাঁদের কথায়, গরুর ক্ষেত্রে এমন আচরণ অত্যন্ত বিরল। তাঁরা এক ‘অসাধারণ ঘটনা’র সাক্ষী হয়েছেন বলে দাবি করেন গবেষকেরা। সম্প্রতি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে ওই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের দাবি, গরুরা যে কোনও সরঞ্জামকে নিজেদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে পারে, এটিই তার প্রথম নথিভুক্ত প্রমাণ।

গবেষকদলের প্রধান ওসুনা-মাসকারোর কথায়, “এই ঘটনা আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে বিভিন্ন সরঞ্জাম কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার বোঝার ক্ষমতা রয়েছে গরুদের। আমরা হাজার হাজার বছর ধরে এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এসেছি। পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ কোটি গবাদি পশু রয়েছে। অন্তত ১০ হাজার বছর ধরে মানুষ এবং গবাদি পশু একসঙ্গে বাস করছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, তাদের এই ক্ষমতা আমরা এতদিন পরে এসে জানতে পারছি।”

ভেরোনিকার এমন আচরণ যে কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃত আচরণ— তা বোঝার জন্য আরও বিশদে গবেষণা করেন তাঁরা। তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তাঁরা ভেরোনিকার আশপাশে বিভিন্ন দিকে লম্বা হাতলযুক্ত ব্রাশ ছড়িয়ে রাখেন। এবং ভেরোনিকার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। তাতে আরও আশ্চর্যজনক তথ্য উঠে এসেছে। ব্রাশের কোন দিকের অংশটি সে মুখে তুলে নিচ্ছে এবং কোন দিক দিয়ে শরীর চুলকাচ্ছে— তা-ও ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন। যেমন, পিঠ চুলকানোর জন্য ভেরোনিকা বেছে নেয় ব্রাশের দিকটি। আবার স্তন বা শরীরের অন্য সংবেদনশীল অংশের জন্য বেছে নেয় হাতলের ভোঁতা দিকটি। গবেষকদের দাবি, এর থেকেই বোঝা যায়, ভেরোনিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে।

এর আগে মনুষ্যব্যতীত অন্য প্রাণীদের মধ্যে শিম্পাঞ্জির ক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণ দেখা গিয়েছে। তারাও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারে। ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ ভ্যালেরিন জেন মরিস গুডঅল তা প্রথম আবিষ্কার করেন। পূর্ব আফ্রিকার তানজ়ানিয়ায় এক জাতীয় উদ্যানে তিনি দেখেন, দুই শিম্পাঞ্জি গাছের সরু ডাল ব্যবহার করে উইয়ের ঢিবি থেকে পোকা বার করে আনছে। তার পরে সেই ডালের আগা মুখে পুরে চেটে খেয়ে নিচ্ছে পোকাদের। শিম্পাঞ্জিরা যে মানুষের মতো বিভিন্ন সরঞ্জামকে প্রয়োজনমতো কাজে লাগাতে পারে— তার প্রথম দলিল এটিই। তবে গরুদের মধ্যেও যে এমন উদ্ভাবনী ভাবনা থাকতে পারে, তা ভেরোনিকাকে নিয়ে গবেষণার আগে জানা ছিল না বিজ্ঞানীদের।

cow Austria
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy