Advertisement
E-Paper

হাতজোড় করে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তার পরেও কোপানো হয়! বাংলাদেশে পির হত্যায় বলছেন ভক্তেরা

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় এক পিরকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের এই ঘটনার পর রবিবারও থমথমে রয়েছে নিহত পিরের গ্রাম ফিলিপনগর।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় এক পিরকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের এই ঘটনার পর রবিবারও থমথমে রয়েছে কুষ্টিয়ায় নিহত পিরের গ্রাম ফিলিপনগর। শনিবার কী ভাবে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের ওই পিরকে হত্যা করা হয়, তার বিবরণ দিয়েছেন তাঁর ভক্তেরা।

রিমা খাতুন নামের এক ভক্ত বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছেন, শনিবার কয়েক জন মানুষ রড-লাঠি নিয়ে পিরের দরবারে চড়াও হয়। দরজায় লাথি মেরে শামীমের ঘরে ঢোকে তারা। তার পর দোতলা থেকে কোপাতে কোপাতে টেনেহিঁচড়ে নীচে নামায়। ওই ভক্তের কথায়, “বাবাকে মারতে মারতে নীচে নিয়ে আসা হয়। প্রথম যখন বাবাকে বার করে, তখন বাবা হাতজোড় করেছিল। কথা বলার সুযোগ চেয়েছিল। কিন্তু এলোপাথাড়ি যে ভাবে মারছিল, কেউ তাঁর কথা শোনেনি। নীচে নামিয়ে যখন রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মাথায়, মুখে, নাকের উপর কোপাচ্ছিল, তখন এক বার শুধু বলতে শোনা গিয়েছে ‘ইয়া মুরশিদ’। তার পর আর কোনও কথা বলতে পারেননি।’’

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেখানে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে গানবাজনা হত। ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে শামীমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ সময় জেলে থাকার পর বাইরে বেরিয়ে ফের তিনি একই ধরনের কাজকর্ম শুরু করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের কয়েক জনকে উদ্ধৃত করে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ৩০ সেকেন্ডের একটি পুরনো ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে শামীমের আস্তানা থেকে আধ কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট নামের এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, দুপুরের পর আস্তানায় হামলা চালানো হবে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই ওই পিরের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলেও লোকজন এত বেশি ছিল যে পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Bangladesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy