Advertisement
E-Paper

দূতাবাসে হানায় কি পাক সেনা?

চলতি মাসের গোড়ায় আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফে ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পিছনেও উঠে এল পাকিস্তানের নাম। এ বার আর পাক মদতে পুষ্ট জঙ্গি নয়, অভিযোগের আঙুল সরাসরি পাক সেনাবাহিনীর দিকে। বালখ প্রদেশের পুলিশ-প্রধান সৈয়দ কামাল সাদাত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমরা নিজের চোখে দেখেছি, এবং ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে আক্রমণকারীরা পাক সেনাবাহিনীর লোক। হামলা চালানোর ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ছিল ওদের।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:২০

চলতি মাসের গোড়ায় আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফে ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পিছনেও উঠে এল পাকিস্তানের নাম। এ বার আর পাক মদতে পুষ্ট জঙ্গি নয়, অভিযোগের আঙুল সরাসরি পাক সেনাবাহিনীর দিকে। বালখ প্রদেশের পুলিশ-প্রধান সৈয়দ কামাল সাদাত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমরা নিজের চোখে দেখেছি, এবং ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে আক্রমণকারীরা পাক সেনাবাহিনীর লোক। হামলা চালানোর ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ছিল ওদের।’’

জানুয়ারির ৩ তারিখ থেকে একটানা ২৫ ঘণ্টা ভারতীয় দূতাবাসের উপরে আক্রমণ চালিয়েছিল হানাদারেরা। দূতাবাস দখল করতে না-পারলেও তাদের আক্রমণে মারা যান এক আফগান পুলিশ। আহত হন তিন জন সাধারণ নাগরিক-সহ ৯ জন। শেষ পর্যন্ত তিন হানাদারকেই নিকেশ করে দূতাবাসের ভারতীয় ও আফগান রক্ষীরা। সাদাতের কথায়, ‘‘হানাদারেরা সামরিক বাহিনীর লোক ছিল। প্রশিক্ষিত, বুদ্ধিমান এবং যথেষ্ট তৈরি। আল্লার দয়ার আমরা ওদের খতম করতে পেরেছি।’’

আফগান পুলিশ বাহিনীর শীর্ষস্তরের এক কর্তার এহেন অভিযোগ ভারত-পাক সম্পর্কের উপরে কী প্রভাব ফেলে সেটা দেখার। এমনিতেই পঠানকোটে জঙ্গি হানার জেরে ধাক্কা খেয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস। ২৫ ডিসেম্বর আফগানিস্তান থেকে ফেরার পথে আচমকাই নওয়াজ শরিফের নিমন্ত্রণে লাহৌরে গিয়ে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নয়া মোচড় এনে দিয়েছিলেন মোদী। কিন্তু তার পরেই পঠানকোটের ঘটনা। বন্ধুত্বের বাতাবরণে যাতে চিড় না ধরে, সে জন্য অবশ্য চেষ্টা করছে দুই দেশই। পঠানকোট-তদন্ত নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন নওয়াজ শরিফ নিজে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে গ্রেফতারও করেছে ইসলামাবাদ।

Advertisement

তবে, উঠছে গড়িমসির অভিযোগও। কারণ, নয়াদিল্লি পাক-জঙ্গি মাসুদ আজহারকে দায়ী করলেও পঠানকোটের সঙ্গে তার যোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে শরিফের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী কমিটি। মাসুদের সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের কোনও শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়নি। পাকিস্তানে জঙ্গিদের ‘হ্যান্ডলার’দের যে নম্বরগুলি দিল্লি দিয়েছে সেগুলি পাকিস্তানি নম্বর নয় বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

মোদী সরকার অবশ্য এখনই এই টালবাহানাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আজ বলেন, ‘‘পাকিস্তান পঠানকোট কাণ্ডের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে ভারতকে আশ্বস্ত করছে। তাই প্রথমেই তাদের অবিশ্বাস না-করে কিছু দিন অপেক্ষা করেই দেখা যাক।’’ অনেকের মতে, পঠানকোটের ঘটনা ভারত-পাক বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠক ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু রাজনাথের মন্তব্য বুঝিয়ে দিল, বৈঠক করার ব্যাপারে নয়াদিল্লি আন্তরিক। তবে একই সঙ্গে ১৫ জানুয়ারি, নির্ধারিত দিনে বৈঠক না-করে ইসলামাবাদকে চাপ দিতে পারে দিল্লি।

আফগানিস্তানের ঘটনায় পাক-যোগের খবর এই সমীকরণ পাল্টে দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে এ দিন রাত পর্যন্ত মুখ খোলেনি দিল্লি-ইসলামাবাদ কেউই।

পঠানকোটের ঘটনায় গুরদাসপুরের বিতর্কিত পুলিশ সুপার সলবেন্দ্র সিংহকে আজ আবার জেরা করেছে এনআইএ। গোয়েন্দাদের একাংশের ইঙ্গিত, সলবেন্দ্রর সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের যোগ থাকতে পারে। হামলাকারী জঙ্গিরা মাদক পাচারকারীদের ব্যবহৃত পথ দিয়েই এসেছিল বলে মনে করছেন তাঁরা। এর সঙ্গে সলবেন্দ্রর যোগ আছে কিনা তা-ই খতিয়ে দেখছে এনআইএ। জঙ্গিদের হাতে অপহৃত হওয়ার সময়ে সলবেন্দ্রর গাড়িতে থাকা তাঁর বন্ধু রাজেন্দ্র বর্মা ও রাঁধুনি মদন লালকেও ফের জেরা করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের অন্য একটি দল আজ জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা ও কাঠুয়া সেনাছাউনি পরিদর্শনে যায়। এনআইএ সূত্রে খবর, পঠানকোট সেনাছাউনি হামলার সঙ্গে ওই দুই সেনাঘাঁটিতে হামলার সাদৃশ্য রয়েছে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy