গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করেছে তেহরান। সমস্যার মুখে পড়েছে বিভিন্ন দেশের তেল-গ্যাস আমদানি। মঙ্গলবার দু’পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে ইরানের খাদ্যপণ্য, মূলত আটার দাম নিয়ে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে ১ কেজি আটার দাম সাধারণত ৭২,০০০ থেকে ১,৯৩,০০০ ইরানি রিয়ালের মধ্যে থাকে। তেহরান এবং মাশহাদের মতো বড় শহরগুলিতে দাম আরও বেশি। ফলে অনেক পরিবারের কাছে আটা কেনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
যদিও ভারতের মুদ্রা রুপিতে হিসাব করলে ভারতীয়দের কাছে ইরানের আটার দাম সস্তা বলেই মনে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় এক রুপি ১৪ হাজার রিয়ালের সমান। অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় গড়ে পাঁচ থেকে ১৪ টাকায় এক কেজি আটা কেনা যাবে ইরানে। তবে এই রূপান্তর যুক্তিযুক্ত না-ও হতে পারে। কারণ ইরানের স্থানীয় বেতন এবং ক্রয়ক্ষমতা অনেকটাই আলাদা। ফলে রুপির নিরিখে আটার দাম কম হলেও অনেক ইরানি পরিবারের কাছে এটি ব্যয়বহুল মনে হতে পারে। কারণ ইরানীয়দের আয় রিয়ালে হয় এবং মুদ্রার দাম তীব্র ভাবে হ্রাস পেয়েছে। রিয়াল দুর্বল হয়ে পড়ায়, দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা দায় হয়ে উঠেছে ইরানিদের কাছে। কয়েক মাস আগে মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছিল ইরানের প্রশাসনকে।
আরও পড়ুন:
আটা ছাড়া অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দামও তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ইরানে। প্রতি কেজি মুরগির মাংস বিকোচ্ছে কয়েক লক্ষ রিয়ালে। খাসির মাংসের দাম আরও বেশি বলে জানা গিয়েছে, যা অনেক পরিবারের জন্য প্রোটিনের জোগান পূরণ করা কঠিন করে তুলেছে।
ইরানে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম নিয়ে সমাজমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা।