পড়াশোনা করেছেন দেশের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি থেকে। বহুজাতিক সংস্থায় মোটা বেতনের চাকরিও করেন। কিন্তু অফিসে কাজ না থাকায় রিল দেখেই সময় কাটে তাঁর। সমাজমাধ্যমে তেমনটাই জানিয়ে হইচই ফেললেন এক তরুণ।
কর্মক্ষেত্রের আশ্চর্যজনক সমস্যা তুলে ধরতে সমাজমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন আইআইটি স্নাতক। তিনি জানিয়েছেন, একটি বহুজাতিক সংস্থায় তাঁর কাজের ধরন তাঁকে রিল দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। ওই প্রযুক্তিবিদ জানান, নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্ব না থাকায় তার দৈনন্দিন রুটিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটে ইউটিউব-ইনস্টাগ্রামে রিল বা ছোট ভিডিয়ো দেখে।
আরও পড়ুন:
রেডিটে শেয়ার করা একটি বিস্তারিত পোস্টে ওই প্রযুক্তিবিদ মোটা বেতন পাওয়া সত্ত্বেও কাজ সংক্রান্ত অতৃপ্তির কথা বর্ণনা করেছেন। তরুণের মতে, পদটি তাঁর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, বিশেষ করে হাতে-কলমে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে। কাজটি তাঁকে পেশাগত ভাবে স্থবির করে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রেডিটের পোস্টে প্রযুক্তিবিদ লিখেছেন, “আমাকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হয়নি। প্রথমে আমাকে একটি সাধারণ কৃত্রিম মেধা প্রকল্পে নিযুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। আমার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার পর আমাকে একটি সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত দলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি বুঝতে পারি যে প্রকৃত কাজ প্রায় নেই বললেই চলে।”
আরও পড়ুন:
তরুণ প্রযুক্তিবিদ জানিয়েছেন, তাঁর কাজের কোনও কাঠামো নেই। নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের অভাব রয়েছে। ঊর্ধ্বতন সহকর্মীরাও কোনও রকম সহযোগিতা করেন না বা পরামর্শ দেন না। তাঁর কথায়, “আমার সাধারণ দিন কাটে অফিসে পৌঁছে মেসেজ আর ইমেল দেখে। তার পর বাড়ি ফেরার সময় না হওয়া পর্যন্ত রিল বা ইউটিউব লেকচার দেখে সময় কাটাই। আমি প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে যাই মাঝেমধ্যে।’’
তরুণের দাবি, অবসর সময়ে তিনি দক্ষতা বৃদ্ধি বা কোনও স্টার্টআপে যোগদানের জন্য ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বর্তমান চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে তিনি সেই পদক্ষেপ করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃত্রিম মেধা কী ভাবে প্রযুক্তিশিল্পে নতুন রূপ দিতে পারে পোস্টে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তিবিদ।
আরও পড়ুন:
তরুণের পোস্টটি অনলাইনে দ্রুত নেটাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নেটাগরিকেরা। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে একটি প্রতিবন্ধকতার পরিবর্তে সুযোগ হিসাবে দেখছেন। তবে অনেকে আবার সতর্ক করেছেন যে, একটি পদে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা কর্মজীবনের অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে মজাও করেছেন কেউ কেউ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “এটা তো স্বপ্নের চাকরি। আপনি এই সময়টা আপনার অন্য কাজ করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।” আর এক জন যোগ করেছেন, ‘‘নিজের দক্ষতা বাড়ান এবং টাকা সঞ্চয় করুন। ঠিক সময় এলে বেরিয়ে যাবেন।” তৃতীয় জন আবার বলেছেন, “যাঁরা বলছেন এটা স্বপ্নের চাকরি, তাঁদের কথা শুনবেন না। আমিও একই রকম পরিস্থিতিতে আছি। চার বছর পর আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কোনও দক্ষতা নেই। নতুন চাকরি জোটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখনই চাকরি পরিবর্তন করুন।”