বাংলাদেশে গত এক বছরে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ! বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অপহরণের মতো ঘটনা। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। বেড়েছে চুরি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগও। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটিই হল প্রথম পূর্ণ এক বছরের পরিসংখ্যান।
বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, গত বছরে সে দেশে মোট ১১০১টি অপহরণের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৭১ শতাংশ বেশি। গত বছরে ডাকাতি ৭০২টি ডাকাতির অভিযোগ জমা পড়েছে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে। সেটিও ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। চুরি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ৯৬৭২টি চুরির অভিযোগ এবং ১৯৩৫টি ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই দুই ধরনের অপরাধের অভিযোগও যথাক্রমে ১২ শতাংশ এবং ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশে গত বছরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং অপহরণ— এই চার ধরনের অপরাধের মোট ১৩,৪১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। সেটিও ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি। বস্তুত, ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ওই মাস থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেন ইউনূস। ওই বছরের শেষ চার-পাঁচ মাস ইউনূসদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:
তার পরে ২০২৫ সালই ছিল ইউনূসদের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম একটি সম্পূর্ণ বছর। পরিসংখ্যান বলছে, এই এক বছরে ২০২৪ সালের তুলনায় বেশি চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি এবং অপহরণের অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন ‘প্রথম আলো’-কে জানান, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা অপরাধের মামলা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই। তবে তার মানে এমন নয় যে সার্বিক ভাবে অন্য অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে মোট মামলা আগের তুলনায় কমেছে। এমনকি খুনের অভিযোগও কমেছে। গত ১৫-২০ বছর ধরে বাংলাদেশে অপরাধের চিত্র মোটামুটি একই রকম রয়েছে। এখন সাধারণ মানুষ সহজে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ছাড়া অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেও নতুন করে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে, এমন ঘটনাও রয়েছে বলে দাবি শাহাদাতের।