বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা করছে পাকিস্তানের একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। ওই সহযোগিতা হয়েছে ঢাকার একটি বেসরকারি বস্ত্র ও ডাইং সংস্থার মাধ্যমে। স্থানীয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান জমানাতেও তা অটুট রয়েছে।
বাংলাদেশে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পরেও সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অটুট। গত মার্চে পাকিস্তানের শিবলি ইলেকট্রনিক্সের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি পরিকাঠামো পরিদর্শন করেছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যে জায়গাগুলি ওই প্রতিনিধি দল ঘুরে দেখেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স এবং জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট। ওই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থার জন্য ‘কাস্টমাইজ়ড রেট্রোফিট মাউন্ট’ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের জন্য নিরাপত্তা অনুমোদন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকার যে সংস্থাটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার মূল ব্যবসা টেক্সটাইল ডাইং ও রাসায়নিক। সংস্থাটি সেনাবাহিনী এবং অন্য প্রতিরক্ষা সংস্থার লাইসেন্সপ্রাপ্ত সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর এই সফর ও সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, ইউনূস আমলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে ছিল। তারেক রহমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে সেই জট খুলতে শুরু করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)