ইরানের মিনাবে স্কুলে হামলায় নিহত ১৭৫ জনের মৃত্যুর দায় কি আমেরিকা নিচ্ছে? পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের মুখে যে পড়তে হতে পারে তা আঁচ করতে পেরেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন শুনেই ট্রাম্পের সটান জবাব, ‘‘ভুল তো হতেই পারে। যুদ্ধ বড় ভয়ঙ্কর বিষয়।’’ আত্মপক্ষ সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এই হামলার নেপথ্যে কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তবে তদন্ত যে চলছে সে কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছিলেন। ওই দিনই হামলা চালানো হয় ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে। সেই হামলায় স্কুলপড়ুয়া-সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্কুলে হামলা চালানোর তীব্র নিন্দা করেছিল ইরান। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক মহল এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জেও আমেরিকার এই হামলার বিষয়টি উত্থাপন করে। যদিও হামলার বিষয়টি প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছিল আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন এই হামলার দায় সে সময় অস্বীকার করেছিলেন, ঠিক তার কিছু দিনের মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়, এই হামলার নেপথ্যে ছিল আমেরিকা।
যদিও এই হামলা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু ট্রাম্প দায় ঠেলেছিলেন ইরানের দিকেই। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়, এটা ইরানের কাজ। ওদের দেশের স্কুলে হামলা চালিয়েছে ওরাই। কারণ, অস্ত্র নিশানায় ওরা খুব একটা দড় নয়। অন্যত্র নিশানা করতে গিয়ে নিজেদের দেশের স্কুলেই হামলা চালিয়েছে।’’ কিন্তু পরবর্তী কালে সরাসরি না হলেও এই হামলা যে আমেরিকাই করেছে, তা স্বীকার করে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভুলবশত হয়েছে। সেই একই কথা শোনা গেল জি ৭-এর শীর্ষ সম্মেলনে। তবে এ বার ট্রাম্পের সংযোজন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই হামলা করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে এল, তা কি সবিস্তারে প্রকাশ্যে আনবেন? এই প্রশ্নও ট্রাম্পকে করেছিলেন সাংবাদিকেরা। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। শুধু জানান, বাকি প্রশ্নের উত্তর দেবেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।