ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিএনপি। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেত্রীর নাম থাকায় শুরু হয়েছে জল্পনা। ‘আওয়ামী লীগের গড়’ হিসাবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা কমিটির অন্যতম সম্পাদক সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরে সোমবার বলেন, ‘‘আমি অনেক দিন সক্রিয় রাজনীতি করিনি। আমার অনুমতি না নিয়েই আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম রাখা হয়েছিল।’’
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের প্রত্যক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিএনপি। সোমবার মহিলা সংরক্ষিত আসনের পরোক্ষ নির্বাচনে ৩৭ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে তারা। সেই তালিকাতেই রয়েছে মতুয়া জনগোষ্ঠীর পরিচিত নেত্রী সুপর্ণার নাম। তিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগের জেলা সম্পাদক পদে ছিলেন। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন হবে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন বিভিন্ন দলের মধ্যে বণ্টন করা হবে এই পর্বে।
বাংলাদেশের সংসদীর বিধি অনুযায়ী ২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের প্রতি ছ’টি আসনের জন্য একটি নারী আসন বণ্টন করা হয়। সেই হিসাব মেনে সংরক্ষিত ৫০টি মহিলা আসনের ৩৬টি পাবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট পাবে ১৩টি আসন। যদি নির্দল সাত জন সংসদ সদস্য জোটবদ্ধ হন, তবে তাঁরা একটি আসন পাবেন। জোটবদ্ধ না হলে তাঁদের ‘প্রাপ্য’ আসনটি সাধারণ নির্বাচনে সর্বাধিক নারী আসনে জেতা বিএনপি পাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণবিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, সে সময় থেকেই ‘নিষ্ক্রিয়’ ছিলেন সুপর্ণা।