Advertisement
E-Paper

হাদি-হত্যার নেপথ্যে হাসিনার দলের লোক! ঢাকা পুলিশের চার্জশিট মানছে না ইনকিলাব মঞ্চ, কাদের দায়ী করছে তারা

হাদিকে খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মেট্রোপলিটন আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে ঢাকা পুলিশ। চার্জশিটে মোট ১৭ জনের নাম রয়েছে। তবে এই চার্জশিট মানতে নারাজ হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৪
ওসমান হাদি।

ওসমান হাদি। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় চার্জশিট জমা দিয়েছে ঢাকা পুলিশ। কিন্তু ওই চার্জশিট মানতে নারাজ ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। তাঁদের দাবি, হাদিকে হত্যার নেপথ্যে একটা পুরো চক্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন না-করা পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

হাদি হত্যা-মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ (শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক তথা মিরপুরের প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে খুন করা হয়েছে হাদিকে! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার শাহবাগে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি থেকে হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, তারা এই চার্জশিট মানে না।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “সরকার বলেছে যে, এক জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাকি ওসমান হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। যার কথায় ফয়সাল করিম মাসুদ খুন করেছে। এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ওসমান হাদিকে খুনের সঙ্গে একটা পুরো খুনের চক্র জড়িত রয়েছে। এই খুনের পিছনে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত রয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি না-করা পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই থামবে না। যে চার্জশিটে তাদের নাম নেই, সেই চার্জশিট মানি না।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যার কর্মসূচি থেকে ‘রক্ত ঝরানোর’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। আল জাবের বলেন, “সরকার শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার করতে সক্ষম না-হলে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদকে এই দেশ থেকে বিদায় করতে না-পারলে পরিণতি কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। এই জনগণ রক্ত দিয়েছে, যদি প্রয়োজন হয় রক্ত নেবেও।” ইনকিলাব মঞ্চ বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সরকারি উদ্যোগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয় অশান্তি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে লড়ার কথা ছিল তাঁর। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশেই খুন করা হয়েছে হাদিকে। তিনি বল‌েন, ‘‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। রাজনৈতিক আঙ্গিকে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিতেন। সেই সব রাজনৈতিক কারণে খুন করা হয় হাদিকে।’’ যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ ইনকিলাব মঞ্চ।

Osman Hadi Bangladesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy