বিক্ষোভকারীদের আর মৃত্যুদণ্ড দেবে না ইরান। তাঁদের গুলি করেও মারবে না। বুধবার ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই দাবির প্রেক্ষিতে অনেকেই মনে করছেন যে, ইরান নিয়ে সর নরম করার ইঙ্গিত দিচ্ছে আমেরিকা। মঙ্গলবার ট্রাম্পই ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, কোনও বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তার পরিণাম ভাল হবে না!
বুধবার ওয়াশিংটনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “এই মাত্র কিছু খবর পেলাম। আর সেটা হল, (ইরানে) হত্যা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই বহু মানুষ এটা নিয়ে কথা বলছিল।”
কী ভাবে তিনি এই খবর পেলেন, এই প্রশ্নের উত্তরে খানিক ধোঁয়াশা বজায় রেখেই ট্রাম্প বলেন, “অন্য দিকের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মারফত আমি এই খবর পেয়েছি।” একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, গোটা প্রক্রিয়ার উপরে তাঁরা নজর রাখছেন।
ইরানে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে গণবিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা-ই এখন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে দমনপীড়ন। লাফিয়ে বাড়ছে নিহতদের সংখ্যাও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০০০-এরও বেশি মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অন্তত ২৪০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সে দেশে। খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় ইরানের ২৬ বছর বয়সি যুবক এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল তেহরান। তবে নরওয়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, আপাতত সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখা হয়েছে।