প্রায় তিন সপ্তাহ পরে ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে পাঁচটি লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকা এই অভিযান শুরু করেছিল, তা পূরণ হয়ে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন ফৌজ। তবে হরমুজ় প্রণালী ব্যবহারকারী দেশগুলিকেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের অসাধারণ সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমরা আমাদের লক্ষ্যপূরণের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছি।’’ এর পরেই আমেরিকার অভিযানের পাঁচটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন ট্রাম্প। জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা নির্মূল করা, প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিতকে আঘাত ও ধ্বংস করা, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সেই সংক্রান্ত অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করা, তারা যাতে পারমাণবিক কার্যকলাপের ধারেকাছেও ঘেঁষতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ‘বন্ধু’ দেশগুলিকে রক্ষা করা— এই ছিল মার্কিন সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য। ‘বন্ধু’ হিসাবে ইজ়রায়েল, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নাম করেছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী
ইরান আক্রমণ করার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছিল
তেহরান। হরমুজ় প্রণালীতেও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে তারা বাধা সৃষ্টি করে। ট্রাম্প
জানিয়েছেন, এই জলপথ যে সমস্ত দেশ ব্যবহার করে, তাদেরই একে রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।
আমেরিকা এই প্রণালী ব্যবহার করে না। তারা জলপথ রক্ষায় অন্য দেশগুলিকে সাহায্য করতে
পারে মাত্র। যদিও ইরানের হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল করে দিলে আর হরমুজ় পাহারা দেওয়ার
প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করেন ট্রাম্প।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে সম্প্রতি ইরানের তেল পরিবহণের উপর থেকে কিছুটা বিধিনিষেধ আলগা করেছেন ট্রাম্প। ইজ়রায়েলকেও ইরানের গ্যাসের ভান্ডারে হামলা চালাতে নিষেধ করা হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে। তবে ট্রাম্পের শনিবারের পোস্ট সংঘরর্ষ অবসানের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ এবং জোরালো ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৪:৪৭
সুইৎজ়ারল্যান্ডে পিছিয়ে গেল আমেরিকা-ইরানের বৈঠক! সফর হঠাৎ বাতিল করে দিলেন ভান্স, শান্তির পথে ফের বাধা? -
দ্বন্দ্ব থামিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান! মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রইল পাকিস্তানের নাম, কোন কোন শর্তে সন্ধি হল?
-
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?
-
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন