পশ্চিম এশিয়ায় আরও এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার বিবৃতি জারি করে ওই মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। তবে কী ভাবে মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিবৃতিতে কেবল সৌদির ১৮ মার্চের ঘটনাবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখেছে, ‘‘রিয়াধে ১৮ মার্চের ঘটনাবলির জেরে ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত।’’ কী ঘটেছিল ১৮ মার্চ? তা খোলসা করা হয়নি। তবে ওই দিন দূতাবাস জানিয়েছিল, রিয়াধের বাসিন্দারা একটি সতর্কবার্তা পেয়েছেন। সেখানকার ভারতীয় প্রবাসীদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল দূতাবাস। স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চলতে বলা হয়েছিল। সে দিনই রিয়াধে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। এই নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে নিহত ভারতীয়ের সংখ্যা পৌঁছোল ৬-এ। তা ছাড়া, এখনও এক জন নিখোঁজ।
আরও পড়ুন:
উপসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের সহকারী সচিব আসিম মহারাজন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে সৌদির ভারতীয় দূতাবাস ওই নাগরিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছে। তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। মৃতের পরিবারকেও সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবেন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এখনও পশ্চিম এশিয়ায় যে ভারতীয়ের খোঁজ মিলছে না, তার জন্য ওমান, সৌদি, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে ভারত সরকার। এই সমস্ত দেশে ভারতীয় দূতাবাস সক্রিয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা কথা বলছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকার উদ্বিগ্ন। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনার দাবি জানিয়েছে বাকি দেশগুলিও। কিন্তু যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে। মৃত্যু হয় তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। এর পর ইরানও প্রত্যাঘাত শুরু করে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এখনও তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নিশানা করে। অভিযোগ, কিছু দিন আগে ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালানোর জন্য আমেরিকা এই দেশের ঘাঁটিই ব্যবহার করেছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৯:১৩
সমঝোতা করতে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প, দাবি মোজতবার, কোন কারণে চুক্তি করতে রাজি হল ইরান, ব্যাখ্যা করলেন তা-ও -
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?
-
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
-
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে