সমুদ্রে ফের ভেনেজ়ুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কার আটকে দিয়েছে আমেরিকা। মাঝপথ থেকে তা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকার অনুমতি ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলা থেকে কোনও তেলের ট্যাঙ্কার বাইরে যেতে পারবে না। এই নিয়ে সমুদ্রে পঞ্চম ট্যাঙ্কার আটকাল তাঁর বাহিনী। ভেনেজ়ুয়েলার তেলের ভান্ডারের উপর মার্কিন আধিপত্য আরও জোরদার করতে শুক্রবারই আমেরিকার শীর্ষ তৈল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। তাদের ভেনেজ়ুয়েলায় বিনিয়োগ করতে বলেছেন।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সংস্থাগুলিকেই ভেনেজ়ুয়েলায় বিনিয়োগের সুযোগ দেবেন ট্রাম্প। কোন কোন সংস্থা সে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, তা তিনিই ঠিক করে দেবেন। শুক্রবারের বৈঠকে সংস্থাগুলিকে ১০০ কোটি ডলার (৯ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ভেনেজ়ুয়েলার পচে যাওয়া পরিকাঠামোকে পুনর্গঠন করার সুযোগ পাবে আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থা। সেখানে তেলের উৎপাদন এমন ভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, যা আগে কখনও হয়নি। কোন সংস্থা এই সুযোগ পাবে, আমরা তার সিদ্ধান্ত নেব।’’
আরও পড়ুন:
ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন বাহিনী। নিউ ইয়র্কে তাঁকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আমেরিকায় অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানোর মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মাদুরোর অপহরণের পর ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে আপাতত পাঁচ কোটি ব্যারেল তেলের চুক্তি হয়েছে আমেরিকার। এতে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমবে, আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সমুদ্রে ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত প্রসঙ্গে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যৌথ ভাবে আমেরিকা সমুদ্রে একটি তেলের ট্যাঙ্কার আটকেছে। সেটি অনুমতি ছাড়াই ভেনেজ়ুয়েলা থেকে রওনা দিয়েছিল। এই ট্যাঙ্কার এখন ভেনেজ়ুয়েলাতেই ফেরানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ওই তেল বিক্রি করা হবে।’’