গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর বক্তব্য হল, গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে সাবধান করে যাচ্ছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো। তার পরেও ডেনমার্ক এই বিষয়ে কিছুই করতে পারেনি বলে দাবি ট্রাম্পের। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সময় এসে গিয়েছে। কিসের সময় এসেছে, তা অবশ্য উল্লেখ করেননি তিনি।
সোমবার সমাজমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, “২০ বছর ধরে নেটো ডেনমার্ককে বলে আসছে যে, রুশ আগ্রাসনের ঝুঁকি থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করুন। ডেনমার্ক এই বিষয়ে কিছুই করতে পারেনি। এ বার সময় এসেছে। এ বার এটা হবে।” ট্রাম্প ঘুরিয়ে গ্রিনল্যান্ডের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথাই বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে মেরু অঞ্চলও সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। সেই দাবির কথা স্মরণ করে দিয়ে ট্রাম্প জানান, কোনও দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার দাবি না-মানে তবে তাদের উপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে!
শুধু হুমকি দেওয়াই নয়, আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি সমর্থন না-করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এই আবহে আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ করতে উদ্যোগী হল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলি। রবিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্সে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে ওই দেশগুলির প্রতিনিধিরা ‘ট্রেড বাজ়ুকা’ বা ‘শুল্ক-ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ‘ট্রেড বাজ়ুকা’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে থাকা একটি বন্দোবস্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, এই রকম এক বা একাধিক দেশ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে ইইউ-র সদস্য দেশগুলি। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ বা দেশগুলির উপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে কখনও এই অস্ত্র প্রয়োগ করেনি তারা।