মার্চের শেষে চিন সফরে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বহু প্রতীক্ষিত সেই সফর পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার চালু করতে চিনের উপর চাপ তৈরি করতেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি হাতিয়ার করছেন দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা বাণিজ্য-সমঝোতাকে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তাদের দাবি, শুধু আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের কোনও জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ‘ফিনানশিয়াল টাইমস’-কে সাক্ষাৎকার দিয়ে ট্রাম্প জানান, হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য তিনি যে উদ্যোগী হয়েছেন, তাতে চিনের সাহায্য করা উচিত। কারণ, তেলের জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল চিন। তাঁর কথায়, ‘‘বেজিং কি সাহায্য করবে, সফরের আগে আমরা জানতে চাই।’’ তার পরেই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘‘সফর (চিন) পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।’’
শুল্ক নিয়ে আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে টানাপড়েন চলছে। দুই দেশই একে অপরের পণ্যের উপর বড়সড় শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বেজিং সফর পিছিয়ে দিলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।
সোমবার প্যারিসে চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেঙের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে বৈঠক করার কথা আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের। তার আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে নতুন করে জট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
আরও পড়ুন:
ফ্লরিডায় সপ্তাহান্ত কাটিয়ে ওয়াশিংটন ফেরার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে সাতটি দেশের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েছে আমেরিকা। কোন সাত দেশ, সে কথা তিনি উল্লেখ করেননি। চিনের কাছে সাহায্য চেয়েছেন কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে তিনি বেজিংকে এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘চিন বেশ কৌতূহল জাগায়। আপনারা আসতে চাইবেন কি না, আমরা দেখব। হয়তো আসবেন, হয়তো আসবেন না।’’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে ওয়াশিংটনে চিনের রাষ্ট্রদূত জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল হরমুজ়। ওই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা সকলের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সহযোগী হিসাবে চিন কিছু দেশের সঙ্গে যোগাযোগ পোক্ত করবে, এমনকি সংঘাতে জড়িতদের সঙ্গেও। ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করবে।’’ প্রসঙ্গত, ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে চিন। খার্গ দ্বীপে আমেরিকার হামলার পরে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ সম্প্রতি দাবি করেছে, চিন থেকে জলপথে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল নিয়ে যাচ্ছে ইরান। অর্থাৎ পরোক্ষে ইরানকে মদত দিচ্ছে চিন। এই পরিস্থিতিতে তাদের উপরে চাপ বাড়াল আমেরিকা। হাতিয়ার করল বাণিজ্য-সমঝোতাকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
২১:১৪
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব তেহরানের, দাবি মোজতবা! কী আমেরিকা নিয়ে? -
১৮:১৯
‘ঝড় আসছে, যা আসছে কেউ ঠেকাতে পারবে না’! নিজের এআই ছবি দিয়ে ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প -
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো
-
ইরানের তিন দফা প্রস্তাব না-ও মানতে পারে ট্রাম্পের প্রশাসন! শান্তি আলোচনার পথের কাঁটা কি সেই পারমাণবিক কর্মকাণ্ডই?
-
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ‘আয়রন ডোম’ দিচ্ছে ইজ়রায়েল! দাবি রিপোর্টে