ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের ওই ‘মুকুটের মণি’ ধ্বংস করে দেবে মার্কিন বাহিনী। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে চিন।
ইরান উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে প্রবাল দ্বীপ খার্গ। হরমুজ় প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয় এই খার্গ দ্বীপ থেকে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পৌঁছোতে ইরানের এই দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পশ্চিম এশিয়ায় যবে থেকে সংঘাত শুরু হয়েছে, তবে থেকে এই ইরান এক কোটি ৩৭ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করেছে। সংবাদমাধ্যম এপি বলছে, এই খার্গ দ্বীপে বহু ট্যাঙ্কারে তেল ভরতে দেখা গিয়েছে। আর ইরান থেকে খার্গ দ্বীপ হয়ে বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল যায় চিনে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনে চিন। ২০২৪ সালে ইরান যত তেল রফতানি করেছিল, তার ৯১ শতাংশই কিনেছিল তারা। গত বছর প্রতি দিন ইরান থেকে গড়ে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছিল চিন। রয়টার্স বলছে, ইরান থেকে মূলত তেল কেনে চিনের শ্যাংডং প্রদেশের বেশ কিছু তেল সংস্থা।
সূত্রে খবর, খার্গ দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই চিনে মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই গাড়ির ট্যাঙ্ক ভরে তেল কিনতে শুরু করে দিয়েছেন। সে দেশে গ্যাসোলিন এবং ডিজেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সে দেশে এক লিটার জ্বালানির দাম ছিল ৯৯.৩ টাকা। মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ১০৯.৪ টাকা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে মার্চেই শোধিত তেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে চিন। মনে করা হচ্ছে উদ্বেগেই এই পদক্ষেপ।
খার্গে মার্কিন বাহিনী বোমা ফেলার পরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই দ্বীপটিতে অবস্থিত ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এর পর হুঁশিয়ারি দেন। জানান, আমেরিকাকে পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশ সাহায্য করছে, তাদের তৈলভান্ডার গুঁড়িয়ে দেবে তেহরান। তার পরেও অবশ্য কোনও পক্ষ সুর নরম করেনি। ট্রাম্প জানিয়ে দেন, তেহরান যে সমঝোতা চাইছে, তাতে কোনও ভাবেই আমেরিকা রাজি হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ়কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা শুধু মজার ছলেই আরও কয়েক বার খার্গ আক্রমণ করতে পারি।’’ সূত্রের খবর, তার পরেই উদ্বেগ বেড়েছে চিনের।