আবার কানাডার বিরুদ্ধে সরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার কানাডার রফতানি করা বিমানের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। নেপথ্যে কানাডিয়ান সরকারের এক সিদ্ধান্ত!
মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা গাল্ফস্ট্রিম অ্যারোস্পেসের তৈরি জেটগুলিকে ‘শংসাপত্র’ দেয়নি কানাডা। আর তাতেই রেগে গিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কানাডা সরকার যদি অবিলম্বে তাদের সিদ্ধান্ত বদল না-করে তবে শুল্ক আরোপের পথে হাঁটবে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রতিশোধ হিসাবে আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কানাডার বিমানে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। এখানেই থামতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভবিষ্যতে কানাডিয়ান সংস্থা বোম্বার্ডিয়ারের তৈরি জেট হোক বা সে দেশের অন্য বিমান— সব ক্ষেত্রে শংসাপত্র বাতিল করা হবে বলে জানান ট্রাম্প।
কানাডার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি মনে করেন, কানাডা অনৈতিক এবং অবৈধ ভাবে গাল্ফস্ট্রিমকে তাদের জেট বিক্রির শংসাপত্র দেয়নি। কানাডার উচিত সেই ‘ভুল’ শুধরে নেওয়া। তা না-হলে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
বোম্বার্ডিয়ার এবং গাল্ফস্ট্রিম— জেটের বাজারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী! ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার মধ্যে সরাসরি ঢুকে পড়েছে আমেরিকা এবং কানাডা প্রশাসনও। তবে বিষয়টি নতুন নয়। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ অর্থাৎ ২০১৭ সালে বোম্বার্ডিয়ারের এক যাত্রিবাহী বিমানের উপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যদিও পরে আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে গিয়েছিল।
কানাডা এবং আমেরিকা— দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন সাম্প্রতিক সময়ে চরমে উঠেছে। চিনের দিকে কানাডা ঝুঁকতেই তাদের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। সম্প্রতি চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা সেরেছে কানাডা। চিনের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি স্বল্প শুল্কে আমদানি করতে চায় কানাডা। পরিবর্তে কানাডার কৃষিজ পণ্য চিনে স্বল্প শুল্কে রফতানি করতে চাইছে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের সরকার। তবে জিনপিঙের সঙ্গে কার্নের এই সম্ভাব্য সমঝোতায় আপত্তি রয়েছে ট্রাম্পের। তাঁর হুঁশিয়ারি, “যদি চিনের সঙ্গে কানাডা কোনও চুক্তি করে, তবে আমেরিকা সঙ্গে সঙ্গে কানাডার সকল পণ্যের উপরে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে।” ট্রাম্প মনে করেন, কানাডাকে গিলে ফেলবে চিন!
আরও পড়ুন:
গত সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন কার্নে। সরাসরি ট্রাম্পের নাম না-করে ছোট দেশগুলির উপর বড় শক্তিগুলির অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি এ-ও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমাতে অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সারবে কানাডা। কার্নের এই মন্তব্যে খুশি হননি ট্রাম্প। তার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল দু’দেশের মধ্যে ‘জেট’ লড়াই।