ইরানের বিরুদ্ধে এখনই সামরিক পদক্ষেপ নয়! বরং সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চায় আমেরিকা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি, বিশাল মার্কিন রণতরী যে ইরানের দিকে এগোচ্ছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে বলেছেন, ‘‘আশা করি সেগুলো আমাদের ব্যবহার করতে হবে না!’’
বৃহস্পতিবার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখনই সামরিক পদক্ষেপ না করা নিয়ে আশাবাদী তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমার প্রথম মেয়াদেই আমি মার্কিন সেনাবাহিনীকে আরও জোরদার করে গড়ে তুলেছিলাম। এখন আমাদের একটি দল ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আশা করি, আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না।’’ ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি এবং এ নিয়ে পরিকল্পনাও রয়েছে। হ্যাঁ, আমাদের বিশাল এবং অত্যন্ত শক্তিশালী রণতরী ইরানে যাচ্ছে। তবে আমাদের যদি সেগুলি ব্যবহার না করতে হয়, তা হলেই ভাল!’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সুর চড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। চাপ দিচ্ছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়েও। ইতিমধ্যেই আমেরিকার রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পশ্চিম এশিয়া লাগোয়া সমুদ্রে পৌঁছে গিয়েছে। সম্প্রতি ইরানে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভকেও প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প। অন্য দিকে, ইরান আগেই জানিয়েছে, আমেরিকা কোনও রকম হামলা চালালে তার জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে তারা। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছে’! যদি ইরানের উপরে কোনও হামলা হয়, তবে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে তারা। তবে সরাসরি আমেরিকা বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি তেহরান। তবে সেই চুক্তিতে যেন কোনও পক্ষপাতিত্ব না থাকে।