তিনি কি জীবিত? বার বার ভিডিয়ো এবং ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেও কিন্তু ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। তাঁর মৃত্যু জল্পনা জোরালো হতেই একের পর এক ভিডিয়ো প্রকাশ করে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন তিনি বেঁচে আছেন। সুস্থ আছেন। এ বার নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘‘আমি বেঁচে আছি।’’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলি বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।
এ বার যে ভিডিয়োটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরও এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইজ়রায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে এসেছে, (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছেন। খুব হালকা চালেই তাঁরা দু’জনে কথা বলছেন। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’’
তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’’ ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার গোলারেজ়া সোলেইমানির যে ইজ়রায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে, দু’জনের কথোপকথনের মাঝেই নেতানিয়াহুকে সেই কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তার পরই বলেন, ‘‘আমার কাছে একটা পাঞ্চ কার্ড আছে। সেই কার্ডে কয়েক জনের নাম আছে। আজকে সেই তালিকা থেকে দু’জনের নাম মুছে দিয়েছি। এখনও আরও অনেকে বাকি আছে।’’
এ কথা বলার পরই হাকাবি মজা করে বলেন, ‘‘কী ভাগ্যিস, ওই তালিকায় আমার নামটা নেই।’’ তখন নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘আপনার নাম ভাল মানুষের তালিকায় রয়েছে।’’ তার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর প্রশংসা করতে শোনা যায় নেতানিয়াহুকে। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনী যা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলব। যাঁরা পরমাণু অস্ত্র বানাবে সেই সব পাগলদের নিশ্চিহ্ন করব আমরা। ওদের কিছুতেই এই কাজে সফল হতে দেব না।’’ তবে এই ভিডিয়োও কি ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সোমবারই ইরানের নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। নওরোজ় উৎসব উপলক্ষে তাঁদের শুভেচ্ছাও জানান তিনি। তাঁদের ‘নির্ভীক জনগণ’ বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু তার পরেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছিল না। সেই ভিডিয়ো প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয় নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে। এ বার সেই ভিডিয়োয় মার্কিন দূতের সঙ্গে দেখা গিয়েছে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ইরান সরকার প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুকে খুনের হুমকি দিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে দিন কয়েক আগে নেতানিয়াহুর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁর এক হাতে ছ’টি আঙুল দেখা গিয়েছিল। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই জল্পনা জোরালো হয় যে, নেতানিয়াহু হয়তো আর বেঁচে নেই। এর পরে সোমবার ফের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয় নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে। সেখানে দেখা যায়, জেরুসালেমের ‘দ্য সাটাফ ক্যাফে’-তে কফি কাপ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নেতানিয়াহু। হাতও নাড়ছেন তিনি। সেখানে তাঁর এক হাতে পাঁচটি আঙুল। ওই ভিডিয়োটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয় শুরু হয়। এক নেটনাগরিক ভিডিয়োর সত্যতা যাচাইয়ের আবেদন জানান গ্রককে। উত্তরে গ্রক জানিয়েছে, ভিডিয়োটি ‘ডিপফেক’। অর্থাৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি। যদিও ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে দাবি করা হয়েছে, সবই গুজব। ফলে নেতানিয়াহু কোথায়, তিনি কি আদৌ জীবিত, তা নিয়ে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে নানা মহলে।