হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের ঘাঁটিতে বিধ্বংসী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ফেলল আমেরিকা! মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী নিকটবর্তী ইরানের উপকূল বরাবর সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে কয়েকটি ২,২০০ কেজির ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ফেলা হয়েছে।
আমেরিকার দাবি, জলপথের এই গোপন ঘাঁটিগুলি থেকে ইরান হরমুজ় প্রণালীতে বাধার সৃষ্টি করছে। তাই ওই ঘাঁটিগুলি উড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তারা যে কোনও উপায়ে সচল করবেই হরমুজ় প্রণালী।
হরমুজ় প্রণালীর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পারস্য উপসাগরের উপকূলে রয়েছে— সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, কুয়েত, ইরাক। প্রতিটি দেশই অপরিশোধিত তেলের খনি। এই দেশগুলি থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করা হয়। রফতানির প্রধান পথ হরমুজ়। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, হরমুজ় দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না!
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়। তবে আমেরিকা প্রথম থেকেই দাবি করছে, তারা হরমুজ় মুক্ত করবেই। প্রয়োজনে নৌবাহিনী পাঠিয়ে জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ় পার করাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জন্য অন্য দেশের সাহায্যও চেয়েছিলেন। সামরিক জোট ‘নেটো’-র কাছে একই আবেদন করেছিলেন তিনি। যদিও সন্তোষজনক সাড়া না-মেলায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘হরমুজ় প্রণালী উন্মুক্ত করতে আমেরিকাকে সাহায্য করতে না চাওয়াটা নেটোর বড় বোকামি। প্রতি বছর এই দেশগুলিকে রক্ষা করতে আমেরিকা শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে। অথচ তার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সমর্থনটুকুও পায় না।’’ তার পরেই ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, কারও সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই ওয়াশিংটনের!
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই হরমুজ়ে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ফেলার দাবি করল মার্কিন বাহিনী। শুধু হরমুজ় প্রণালীর পার্শ্ববর্তী সামরিক ঘাঁটিতে নয়, ইরানের নানা জায়গায় ‘স্থায়ী ক্ষত’ তৈরি করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস থেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা খুব শীঘ্রই সেখান (ইরান) থেকে সরে যাব। কিন্তু ওদের যা ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে ১০ বছর সময় লাগবে। আমি মনে করি, আরও কিছু ক্ষতি করতে হবে, যাতে সে দেশের কোনও প্রেসিডেন্ট হামলার কথা ভাবতে না-পারেন।’’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক হুমকি হয়ে না-দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করাই আমেরিকার লক্ষ্য। আর সেই কাজ তারা চালিয়ে যাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৭:০৯
হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধের পর থেকে কয়েকশো কোটি লোকসান ইরানের! পেন্টাগন বলছে, ‘লক্ষ্যপূরণ’ -
১৩:১৪
‘কালো ইগল’-এর ঠোক্করের আতঙ্কে থরহরিকম্প! ট্রাম্পের ‘ইয়র্কারে স্টাম্প ওড়া’র ভয়ে শান্তিচুক্তিতে নিমরাজি শিয়া ফৌজ? -
০৯:৩৩
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা ইজ়রায়েলের, নিহত অন্তত ১২! আবার কি নতুন করে যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায়? -
০৯:১১
ইরান-যুদ্ধে সাহায্য না পেয়ে বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে ইউরোপের দেশ থেকে -
০৮:০৭
৭ এপ্রিল থেকে গোলাগুলি কিছু চলেনি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়েছে! মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠিতে আর কী লিখলেন ট্রাম্প