আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বার নয়া দাবি করলেন। তিনি জানান, যদি তাঁকে হত্যা করে, তবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে দেবে আমেরিকা।
ইরান ইতিমধ্যেই আমেরিকার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রেখেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপর হামলা হলে ছেড়ে কথা বলবে না তেহরান। সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী— একই সুরে বার্তা দিয়ে চলেছে। তার মধ্যেই ট্রাম্প নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা করলেন।
সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমার দৃঢ় নির্দেশ আছে, যা কিছু ঘটুক তাদের (ইরানকে) পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে হবে।’’ তার আগেই ট্রাম্পের এক বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, তিনি তাঁর উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যদি তাঁর উপর হামলার কোনও প্রচেষ্টার নেপথ্যে ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তবে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনেই-বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের এই গণবিক্ষোভে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মদত রয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ তুলে আসছে তেহরান। তা নিয়ে দু’দেশকেই সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, ‘‘ট্রাম্প জানেন, যদি কেউ আমাদের নেতার (আয়োতোল্লা আলি খামেনেই) দিকে হাত বাড়ান তবে আমরা শুধু সেই হাতটা কেটে ফেলব না, বরং তাঁদের জগতেও আগুন ধরিয়ে দেব।’’ উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগে খামেনেইয়ের নিন্দা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘উনি অসুস্থ মানুষ। ওঁর উচিত মানুষ হত্যা না-করে, নিজের দেশকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করা।’’ ট্রাম্প এ-ও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ হেন মন্তব্য ভাল ভাবে নেয়নি তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, তাদের দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলির শত্রুতা ও ‘অমানবিক’ নিষেধাজ্ঞা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দেশের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি যে কোনও অবমাননা আসলে সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের সমান।’’