E-Paper

ধ্বংসস্তূপে রোগীদের দেহ খুঁজছেন পরিজন

সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ নাগাদ ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলে কাবুলের ‘ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট’ হাসপাতালে। ২০০০টি শয্যার ব্যবস্থা থাকা ওই হাসপাতালে মূলত মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলত। হামলার জেরে ঘটনাস্থালেই মৃত্যু হয় ৪০০ জনের।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৭:৩৮
হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষে উদ্ধারকর্মীরা। মঙ্গলবার কাবুলে।

হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষে উদ্ধারকর্মীরা। মঙ্গলবার কাবুলে। ছবি: পিটিআই।

আফগানিস্তানের একটি হাসপাতালে হামলা চালালো পাকিস্তানের বায়ুসেনা। দু’হাজার শয্যার ওই হাসপাতালে হামলার জেরে এখনও পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০০ জন। পাকিস্তানের এই হামলার ঘটনার নিন্দা করেছে কাবুল। তালিবানের হুমকি, পাকিস্তান যে ভাবে হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিশোধ নেবে কাবুল। পাকিস্তানের অবশ্য দাবি, কাবুলের কোনও হাসপাতালে হামলা চালায়নি তাদের সেনা।

সূত্রের খবর, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ নাগাদ ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলে কাবুলের ‘ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট’ হাসপাতালে। ২০০০টি শয্যার ব্যবস্থা থাকা ওই হাসপাতালে মূলত মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলত। হামলার জেরে ঘটনাস্থালেই মৃত্যু হয় ৪০০ জনের। আহত হন অন্তত ২৫০ জন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাসপাতালের একটি বড় অংশ। খবর পাওয়া মাত্র রোগীদের পরিবার-পরিজন প্রিয়জনেদের খোঁজ করতে ভিড় জমান হাসপাতালের বাইরে। বন্ধুদের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বছর পঞ্চাশের এক স্থানীয় বাসিন্দা, আহমেদ। ওই হাসপাতালেই নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে আহমেদ জানান, প্রার্থনা শেষ করে প্রায় ২৫জন বন্ধুর সঙ্গে ওই হাসপাতালের ডর্মিটরিতে গিয়ে থাকছিলেন তিনি। সেই সময়ে চলে ওই ভয়াবহ হামলা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর সকলবন্ধুর। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি।

আফগানিস্তানের প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের ‘অপারেশন গাজ়াব লিল হক’-এর অংশ হিসেবে সোমবার রাতভর আকাশপথে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলার জেরে কাবুলের ওই হাসপাতাল ছাড়াও বেশ কিছু তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা পরিকাঠামো এবং গোলাবারুদ মজুত রাখার কেন্দ্র ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারারের অবশ্য দাবি, জঙ্গিদের নিকেশ করতে কিছু ‘নির্দিষ্ট জায়গায়’ হামলা চালিয়েছিল তাদের সেনা। সাধারণ মানুষকে বিব্রত করার কোনও উদ্দেশ্যই ছিল না তাদের। ৭৩ জন জঙ্গি ও তাদের পরিকাঠামোর উপরে সফল ভাবে হামলা চালানো গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মুখপাত্র, সারাফত জ়ামান অমরখেইলের দাবি, ওই হাসপাতালের কাছাকাছি কোনও সামরিক পরিকাঠামো নেই। তাঁর দাবি, পাকিস্তান ওই হামলা চালিয়েছে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করেই। এই ঘটনার নিন্দা করে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেছেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যে ভাবে নিরীহ নাগরিকদের উপরে হামলা চালানো হচ্ছে, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওই ৪০০ জনের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই।”

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানের বহু ক্রিকেটার নিন্দা জানিয়েছেন এই ঘটনার। খেলোয়াড় রশিদ খান এ দিনের ঘটনাকে ‘ওয়ার ক্রাইম’ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ বলে নিন্দা করে বলেছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের উচিত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারতও। যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়ে বেজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত দু’পক্ষের মধ্যে শান্তি ফিরবে, ততই ভাল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pakistan-Afghanistan Conflict

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy