পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির পরে এ বার সে দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গেলেন ইরানে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি শর্ত নিয়ে মধ্যস্থতারর উদ্দেশ্যেই তাঁর তেহরান-যাত্রা বলে জানিয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সরকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার আবার শান্তিপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানে গিয়ে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েসকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। মহসিন ইসলামাবাদে ফেরার পরেই শুক্রবার রাতে তেহরানে গিয়েছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি!
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি শনিবার সকালে বলেছেন, ‘‘যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। তবে এখনও পর্যন্ত আলোচনায় কোনও নির্ণায়ক অগ্রগতি হয়নি। দু’পক্ষের (আমেরিকা এবং ইরান) মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে চিন সফরে যাওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমরা যুদ্ধবিরতি করেছি অন্য দেশগুলির অনুরোধে। আমার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আমরা এটা পাকিস্তানের জন্য করেছি, ওদের কথা ফেলতে পারিনি।’’ পাক শীর্ষনেতাদের প্রশংসা করে এর পর ট্রাম্প বলেন, ‘‘ওরা দারুণ মানুষ! ওদের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী দারুণ মানুষ।’’
তবে পাকিস্তানের অনুরোধে ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’র সময়সীমা বাড়ালেও তেহরানের দেওয়া ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত’ সরাসরি খারিজ করেছেন ট্রাম্প। পেজ়েশকিয়ান সরকার জানিয়েছিল যে, তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হল, তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার পরিবর্তে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে দিতে হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউস তা মানতে রাজি নয়। পাশাপাশি, হরমুজ় প্রণালী খোলার পূর্বশর্ত হিসাবে মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ পশ্চিম এশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলি থেকে মার্কিন ফৌজ প্রত্যাহারের দাবি তুললেও পেন্টাগন সেই সম্ভাবনা খারিজ করেছে। এই আবহে মুনিরের সফর ইরানকে শান্তির পথে ফেরাতে পারে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।