আরও একটি মার্কিন রণতরী পৌঁছে গেল পশ্চিম এশিয়ায়। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯০টি যুদ্ধবিমান এবং ৫০০০ সেনা নিয়ে ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নোঙর করেছে রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সেটি পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে। ফলে সামরিক সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় এই মুহূর্তে আমেরিকার তিনটি রণতরী মোতায়েন করা হল।
ইউএসএস বুশ মার্কিন নৌসেনার সুপার ক্যারিয়ার। ২০০৯ সালে এটিকে মার্কিন সেনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই রণতরীর নাম আমেরিকার ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লু বুশের নামে রাখা হয়েছে। এটিকে ফ্লোটিং এয়ারবেস বা ভাসমান বায়ুসেনাঘাঁটিও বলা হয়। এই রণতরী থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও বিমান হামলা চালানো যেতে পারে। এই রণতরী পরমাণু শক্তিতে চলে। ফলে জ্বালানি ভরার কোনও প্রয়োজন হয় না। টানা কয়েক বছর সমুদ্রে সফর করতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই রণতরীর ওজন এক লক্ষ ২ হাজার টন। দৈর্ঘ্য ১০৯২ ফুট। অর্থাৎ তিনটে প্রমাণ আকৃতির ফুটবল মাঠের সমান। ২৫২ ফুট চওড়া। ৩০ নটিক্যাল মাইল (ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার) গতিবেগে জলপথে চলতে পারে এই রণতরী। এই রণতরীতে দু’টি এ৪ডব্লিউ পরমাণু রিয়্যাক্টর রয়েছে। যা প্রায় ২০-২৫ বছর পর্যন্ত কোনও রিফুয়েলিং ছাড়াই চলতে পারে। জাহাজে ৩২০০ নাবিক, এয়ার উইংয়ের ২৪৮০ সদস্য মিলিয়ে মোট ৫০০০ সেনা রয়েছে। এই রণতরী ৬০-৯০টি যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার বহন করতে পারে। এই রণতরীতে রয়েছে এফ/এ-১৮ই/এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান, ইএ-১৮জি গ্রাউলার, ই-২ডি হকি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম), এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার।
এই রণতরীতে রয়েছে, দু’টি এমকে ২৯ লঞ্চার (ইভল্ভড সি স্প্যারো মিসাইল)। দু’টি আরআইএম-১১৬ রোলিং এয়ারফ্রেম মিসাইল, তিনটি ২০এমএম গ্যাটলিং গান, ২৫এমএম মেশিন গান।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের শুরুতে দু’টি মার্কিন রণতরী পৌঁছে গিয়েছিল পশ্চিম এশিয়ায়। সেই দু’টি রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড। এ বার সেই দলে যোগ দিল ইউএসএস বুশ। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা গত বুধবারে আবার বাড়ানো হয়েছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শনী করে ইরান। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের দিন ক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। সেই বৈঠক হবে কি না তা ঘিরেও সংশয় ক্রমশ বাড়ছে। তার মধ্যেই আরও এক মার্কিন রণতরী পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছোনোয় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা জোরালো হচ্ছে।