E-Paper

বিমান-ঠাসা নোট ইরানে, ট্রাম্পের নিশানায় ওবামা

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ওবামা যে ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ চুক্তিটি করেন, সেটিতে আমেরিকা ছাড়াও ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চিন এবং জার্মানি সই করেছিল।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:১১
বারাক ওবামা।

বারাক ওবামা। ফাইল চিত্র।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বারাক ওবামা দু’টি বিমান বোঝাই করে ইরানকে নগদে রাশি রাশি নোট পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুললেন তাঁর বর্তমান উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ওবামা যে পরমাণু চুক্তিটি করেছিলেন, তার চেয়ে খারাপ চুক্তি হয়তো তিনি আর কখনও দেখেননি!

কিন্তু কেন? আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দাবি, চুক্তিটি করে ওবামা ইরানের হাতে পশ্চিম এশিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। আর তিনি নিজে ঠিক উল্টো পথে হেঁটে চুক্তি বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমি চুক্তিটা বাতিল না-করলে ওরা (ইরান) বছর তিনেক আগে শুধু বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার বানিয়েই ফেলত না, এত দিনে অন্তত ইজ়রায়েল তো বটেই, অন্যান্য দেশের উপরেও ওই অস্ত্র প্রয়োগ করে বসত।’’

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ওবামা যে ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ চুক্তিটি করেন, সেটিতে আমেরিকা ছাড়াও ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চিন এবং জার্মানি সই করেছিল। নিষেধাজ্ঞা তোলার বিনিময়ে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি তথা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নজরদারিতে আসবে, এই ছিল চুক্তি। তবে ২০১৬ সালে সেই চুক্তি কার্যকর হতেই ওবামা প্রশাসন ৪০ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার নোট বিমানে করে গোপনে ইরানে পাঠিয়েছিল বলে সেই সময়কার আমেরিকান প্রশাসনের কর্তারাই স্বীকার করেন। শাহদের শাসনকালে আমেরিকার থেকে যুদ্ধাস্ত্র কিনতে একটি তহবিলে জমা দেওয়া ৪০ কোটি ডলার ফেরত চেয়ে দ্য হেগ-এর আন্তর্জাতিক আদালতে কয়েক দশক ধরে মামলা লড়ছিল ইরান। ওবামার যুক্তি ছিল, বিষয়টিকে টেনে নিয়ে যাওয়া অনর্থক। ইরান ১০০০ কোটি ডলার ফেরত চাইছিল। আমেরিকা ১৭০ কোটিতে রাজি হয়েছিল, যা আখেরে তাদেরই নৈতিক জয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’দেশের মধ্যে ব্যাঙ্কিং-যোগ না-থাকায় সুইস ফ্রাঁ, ইউরোর মতো বিভিন্ন মুদ্রায় সেই টাকা নগদে পাঠানো হয়েছিল। তা নিয়েই ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘দু’টো বোয়িং-৭৫৭ বিমানের সমস্ত আসন উপড়ে ফেলে সেখানে নোট বোঝাই করে পাঠানো হয়েছিল ইরানে। কোনও প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতা আছে বলে জানতাম না।’’

যদিও আইএইএ বলেছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছিল, এমন কোনও প্রমাণই মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, পেন্টাগনও কোনও অকাট্য প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারেনি, ‘আত্মরক্ষার্থে’ ইরানে হামলা কেন জরুরি ছিল। উল্টে ট্রাম্পের দেশই মঙ্গলবার ‘মিনিটম্যান-৩’ নামে ১৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার একটি আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। অর্থাৎ ঘরে বসে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দুনিয়ার যে কোনও দেশে হিরোশিমার চেয়ে ২০ গুণ শক্তিশালী পরমাণু বোমা ফেলতে পারে আমেরিকা। সংবাদ সংস্থা

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

america Barack Obama

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy