ইজ়রায়েলের সঙ্গে আলোচনায় না বসার জন্য লেবানন সরকারের উপর চাপ তৈরি করছে সে দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। মঙ্গলবার আমেরিকার ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসতে চলেছে লেবানন এবং ইজ়রায়েল। বৈঠকে মধ্যস্থতা করছে মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু সেই বৈঠকে আদৌ কোনও সুরাহা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে হিজ়বুল্লা।
আপাতত দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে আমেরিকা এবং ইরানের। তবে পশ্চিম এশিয়ার অপর প্রান্তে এখনও সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষের অভিমুখ বদলে গিয়েছে লেবাননের দিকে। সে দেশের দক্ষিণ প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আগেই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজ়রায়েলের যুদ্ধ চলছে। ২০২৩ সালে হামাস গোষ্ঠীর উপর ইজ়রায়েলের হামলার পর থেকেই হিজ়বুল্লার সঙ্গেও সংঘর্ষ শুরু হয় তেল আভিভের। ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী এবং ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি সেই সংঘর্ষের আঁচ গিয়ে পড়েছে লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও। সেখানেও হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। আমেরিকার দাবি, ইরানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল না। একই দাবি ইজ়রায়েলেরও। এই পরিস্থিতিতে লেবাননে শান্তি ফেরানোর জন্য মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে থাকার কথা দু’দেশের রাষ্ট্রদূতেদেরও।
আরও পড়ুন:
ওই বৈঠকের ঠিক আগেই হিজ়বুল্লা নেতা নঈম কাসেমের একটি ভাষণ সম্প্রচারিত হয় লেবাননের সংবাদমাধ্যমে। ওয়াশিংটনে হতে চলা বৈঠক আসলে একটি ‘ব্যর্থ’ চেষ্টা বলে দাবি করেছেন তিনি। লেবানন সরকারকে ওই বৈঠক থেকে সরে আসার জন্য বলেছেন কাসেম। তাঁর কথায়, লেবানন সরকারের এখন একটি ‘ঐতিহাসিক এবং সাহসী অবস্থান’ নেওয়ার সময় এসেছে।
হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীকে অস্ত্রসমর্পণের চাপ দেওয়ার জন্যই ওয়াশিংটনে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে মনে করছেন কাসেম। সম্প্রচারিত ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, “ইজ়রায়েল স্পষ্টতই বলে দিয়েছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হল হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করা। এ কথা নেতানিয়াহু আগেও বহু বার বলেছেন। তা হলে আপনারা (লেবানন সরকার) কী ভাবে এমন একটি আলোচনায় বসছেন?”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প