করোনাভাইরাস দ্রুত বদলে দিচ্ছে জীবন, সমাজ, অর্থনীতি। তবে এই প্রথম নয়। অতিমারি দেখা দিয়েছিল জিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ৪৩০ বছর আগে। আথেন্সে। সেটাই অতিমারির প্রচীনতম লিখিত ইতিহাস। মনে করা হয়, ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিলেন তাতে। আধুনিক গবেষণা বলছে, সংক্রামক ব্যাধির ইতিহাস আরও পুরনো। পাঁচ হাজার বছর আগে প্রস্তর যুগে, এমনকি তারও আগে, অতিমারির শিকার হত মানুষ। জীবনযাত্রায় সে যুগেও বিশাল পরিবর্তন ঘটাত অতিমারি। এখন যা করে চলেছে কোভিড-১৯।
প্রাচীন মানুষের দাঁতের ভিতরে পাওয়া ডিএনএ-র নমুনা পরীক্ষা করে উঠে আসছে এই সব তথ্য। বিজ্ঞানের এই সদ্যোজাত শাখাটিকে বলা হচ্ছে ‘প্যালিয়োজেনোমিক্স’। জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক মারিয়া স্পাইরোর মতে, করোনাভাইরাসকে চিহ্নিত করতে যে ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে, ঠিক সেই রকম সরঞ্জাম দিয়েই কাজ করেন ‘প্যালিয়োজেনোমিক্স’ বিশেষজ্ঞেরা। প্রাচীন মানুষের কঙ্কালের দাঁতের ভিতর থেকে ডিএনএ বার করে আনার নতুন পদ্ধতি খুঁজে বার করেছেন তাঁরা। ‘শটগান সিকোয়েন্সিং’ নামে বিশেষ পদ্ধতিতে সমস্ত জিনগত তথ্য বার করে, এবং তা বিশ্লেষণ করেই জানা যাচ্ছে ‘প্যাথোজেন’ বা জীবাণুর ইতিকথা। এই ভাবে আরও প্রসারিত হচ্ছে রোগের তথ্যভাণ্ডার। আর আজকের দিনে নতুন নতুন গবেষণার কাজে লাগানো হচ্ছে তাকে।
ইতিমধ্যেই এই তথ্য ভাণ্ডারে যোগ হয়েছে জীবাণু সম্পর্কিত অনেক অজানা তথ্য। যেমন, প্রস্তর যুগে যে ধরনের অতিমারি (অনেকের মতে প্লেগ) ছড়িয়েছিল, তার থেকে পরবর্তী সময়ের অতিমারির জীবাণুর জিনগত পার্থক্য রয়েছে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস হানাদারি চালাত ৭০০০ বছর আগেও। আমেরিকায় প্রতি বছর সালমোনেলা ব্যাক্টিরিয়ায় আক্রান্ত হন অনেকে। এখন দেখা যাচ্ছে, ৬৫০০ বছর আগেও এই ব্যাক্টিরিয়ায় অসুস্থ হতেন মানুষ। এমন আরও খোঁজ মিলছে সেই যুগের দাঁতের কল্যাণে।