×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ মে ২০২১ ই-পেপার

হলিউডে ঠিক যেন সিনেমা, বন্দুকবাজকে ঘিরে তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক

সংবাদ সংস্থা
লস অ্যাঞ্জেলস ২২ জুলাই ২০১৮ ১১:৪২
মুক্তির চুম্বন: সুপারমার্কেটে পণবন্দি থাকা প্রেমিকাকে মুক্তির পর আলিঙ্গন যুবকের। ছবি: রয়টার্স

মুক্তির চুম্বন: সুপারমার্কেটে পণবন্দি থাকা প্রেমিকাকে মুক্তির পর আলিঙ্গন যুবকের। ছবি: রয়টার্স

দিদা ও প্রেমিকাকে গুলি করে খুন। গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা। পুলিশের তাড়ায় সুপারমার্কেটে ঢুকে কয়েকজনকে পণবন্দি করা। এবং সব শেষে আত্মসমর্পণ। শনিবার এমনই রুদ্ধশ্বাস নাটকের সাক্ষী হল মার্কিন মুলুকের লস অ্যাঞ্জেলস। ওই সুপারমার্কেটে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন লস এঞ্জেলেসের মেয়র এরিক গারসেট্টি। আততায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করতে চায়নি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাউথ লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথমে বাড়িতে ঢুকে নিজের দিদা ও প্রেমিকাকে গুলি করে খুন করেন ওই যুবক। পুলিশ তদন্তে নেমে হলিউডের কাছে অভিযুক্ত যুবকের গাড়ির সন্ধান পায়। গাড়ি থামাতে বললেও তিনি রাজি হননি। বাধ্য হয়ে পুলিশ গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে। চলন্ত গাড়ির ভিতর থেকেই গুলি চালাতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। তবে তাতে কেউ আহত হননি।

বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া করার পর অবশেষে একটি পোলে ধাক্কা মারে ওই সন্দেহভাজনের গাড়ি। এরপর গাড়ি থেকে নেমে সামনেই ট্রেডার্স জো’স নামে একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে পড়ে ওই আততায়ী। সেই সময়ই পুলিশ গুলি চালালে সুপারমার্কেটের সামনের দিকের কাচ ভেঙে যায়। কিন্তু আততায়ী নিরাপদেই সুপারমার্কেটের পিছনের দিকে গিয়ে কয়েকজনকে পণবন্দি করে ফেলে।

Advertisement



ভিতরে পণবন্দি। সুপারমার্কেটের সামনে পুলিশি তৎপরতা। ছবি: এএফপি

আরও পড়ুন: চুরি করেই কোটি কোটি ইউরো এই ‘বান্টি-বাবলি’র!

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন আরও প্রচুর পুলিশকর্মী। গোটা সুপারমার্কেট ঘিরে ফেলে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। পৌঁছে যায় দমকলের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন। কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয় গোটা এলাকায়। পুলিশ বা আততায়ীর দিক থেকে সুপারমার্কেটের ভিতরে গুলি চালানোর কোনও শব্দ শোনা যায়নি। তবে সুপারমার্কেটের ভিতরে থাকা লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকে জানালা দিয়েও লাফ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাতে এক মহিলা গুরুতর চোট পান। ভিতরেও এক মহিলার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: রক্তে আঁকা ডায়ানার ছবি

পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় অভিযুক্তকে। একইসঙ্গে চলতে থাকে অপারেশনের প্রস্তুতিও। প্রায় তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতির পর চার জন পণবন্দিকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন ওই আততায়ী। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যবনিকা পড়ে কয়েক ঘণ্টার টানটান নাটকের। তবে কী কারণে ওই যুবক দিদা এবং প্রেমিকাকে খুন করল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি।

Advertisement