E-Paper

বাজারের থলে কোলে বাড়িতে বাড়িতে ড্রোন

কোভিডের সময়ের কথা। ২০২০-’২১ সাল নাগাদ ড্রোনের সাহায্যে বাড়ি বাড়ি জিনিস সরবরাহ করা যায় কি না, তাই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে ‘ওয়ালমার্ট’। পরীক্ষামূলক সরবরাহের জন্য বেছে নেওয়া হয় আমাদের এই শহর, অর্থাৎ জর্জিয়া প্রদেশের আটলান্টাকে।

শুভশ্রী নন্দী

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬
পণ্য নিয়ে পাড়ি।

পণ্য নিয়ে পাড়ি। ছবি: সংগৃহীত।

সত‍্য যুগের আকাশ থেকে নাকি পুষ্পবৃষ্টি হত। কলিযুগেও বন‍্যাত্রাণের খাবারের প‍্যাকেট বিতরণে হেলিকপ্টার বা বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পুস্তিকা বিতরণের জন্য বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। আর সম্প্রতি এ দেশে ‘ওয়ালমার্ট’ বা ‘ম‍্যাকডোনাল্ড’-এর মতো খ্যাতনামা বিপণিগুলি ড্রোন ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি খাবারের প‍্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছে।

কোভিডের সময়ের কথা। ২০২০-’২১ সাল নাগাদ ড্রোনের সাহায্যে বাড়ি বাড়ি জিনিস সরবরাহ করা যায় কি না, তাই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে ‘ওয়ালমার্ট’। পরীক্ষামূলক সরবরাহের জন্য বেছে নেওয়া হয় আমাদের এই শহর, অর্থাৎ জর্জিয়া প্রদেশের আটলান্টাকে। পরে টেক্সাসের ডালাস ও ফ্লরিডার ট্যাম্পা-সহ পাঁচটি প্রদেশে তাদের এই পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট চালু করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

২০২৫-এর ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘উইং ডেলিভারি’ নামে একটি অ্যাপ সহযোগে ইতিউতি খাবার ও খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে আটলান্টায়। গত বছরের শেষ থেকে এ বছর এখন পর্যন্ত বরফঝড়ে জেরবার ও ঘরবন্দি মানুষকে সাহায‍্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চোখে পড়ার মতো ড্রোন দেখা গিয়েছে আটলান্টার আকাশে।

প্রথম প্রথম খুব চমকে যেতাম, তবে এখন চোখ-সওয়া হয়ে গিয়েছে। ওয়ালমার্ট জানাচ্ছে, তাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে যদি আপনি ড্রোন ডেলিভারি বেছে নেন, তা হলে সওয়া কিলো (আড়াই পাউন্ড) পর্যন্ত ওজনের জিনিস ৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাবে উড়ে উড়ে। ইতিমধ‍্যেই ওয়ালমার্ট দেড় লক্ষ সফল ডেলিভারি করেছে। এখন পর্যন্ত এই পরিষেবা বিনামূল্যেই দেওয়া হচ্ছে।

সেনা প্রশিক্ষণ এবং সামরিক নজরদারির জন্য যে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছিল, কে জানত, সেটি এক দিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অঙ্গ হয়ে উঠবে। খাবার সরবরাহের অনেক আগেই অবশ্য নর্থ ক্যারোলাইনায় রেলের ‘ওয়েকম‍্যান’ হাসপাতালের প‍্যাথলজি ল‍্যাবে রক্ত ইত্যাদির নমুনা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হত। তা ছাড়া, কোনও কোনও সংস্থা ওষুধ সরবরাহেও ড্রোন ব্যবহার করে থাকে।

তবে ড্রোনের মাধ্যমে সরবরাহের প্রচলন যত বাড়বে, তত কর্মসংস্থানে টান পড়বে ডেলিভারি দেন যাঁরা তাঁদের, সেই আশঙ্কায় বাড়ছে। তার সঙ্গে থাকছে আকাশ-নিরাপত্তার প্রশ্নও। ‘ফ্লাইট অ্যাভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন’ বিমানবন্দরের পাঁচ মাইলের মধ‍্যে ড্রোনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ড্রোন ডেলিভারির ব‍্যাপক ব‍্যবহারে আকাশকেও হয়তো অচিরেই স্থান সঙ্কুলানের সম্মুখীন হতে হবে!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Atlanta Drone Food Delivery

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy