E-Paper

তারেক-বার্তায় পাকিস্তানের গণহত্যা, স্বস্তি ভারতের

তারেকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি-র রাজ্যসভার সদস্য তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন স্রিংলা মনে করেন, একাত্তরে যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিকের প্রগাঢ় স্বচ্ছতা তৈরি করেছে এবং পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিয়ে আন্তর্জাতিক দাবিকেই সামনে এনেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫০
(বাঁ দিকে) তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সময় ক্রমশ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় সে দেশে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ঘাঁটি গাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চিনকে সঙ্গে রেখে ইসলামাবাদও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথ আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য কিছু হলেও স্বস্তি দিয়েছে ভারতকে।

তারেকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি-র রাজ্যসভার সদস্য তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন স্রিংলা মনে করেন, একাত্তরে যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিকের প্রগাঢ় স্বচ্ছতা তৈরি করেছে এবং পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিয়ে আন্তর্জাতিক দাবিকেই সামনে এনেছে। তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি এবং ভারত সবসময় নিঃশর্ত ভাবে সেই সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা যখন এই যৌথ ইতিহাসকে সম্মান জানায়—রাজনৈতিক মতভেদ যাই থাকুক না কেন—তখন আমরা একটি স্থিতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ও সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাই।’’

বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’-এ সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সেই অভিশপ্ত রাতে পাক-ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। গণহত্যার সেই ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তারেক শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, ‘‘২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন-সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।’’ ২৫ মার্চের গণহত্যা একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘সুপরিকল্পিত এই হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না, এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ঐতিহাসিক গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে গড়ে তোলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ ন’মাসেরসশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।’’

একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনা এবং পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়টি নয়াদিল্লি নজরে রেখেছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বিরোধী দল শক্তিশালী জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া অথবা তাদের সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যও তারেকের রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Bangladesh Relation India-Bangladesh Tarique Rahman PM Narendra Modi Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy