E-Paper

হরমুজ়-আতঙ্ক: সঙ্কটে ইন্টারনেট যোগাযোগও

হরমুজ় প্রণালীর জলরাশির নীচে বিছানো রয়েছে এক ‘অন্তর্জাল’—‘সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক কেবল’।

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তেহরান, ৯ মার্চ: বলা হয়, হরমুজ় প্রণালী নাকি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘চেক পয়েন্ট’! পারস্য উপসাগর, ওমানউপসাগর দিয়ে ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এটি। এই বাণিজ্যপথে বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি-রফতানি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পথ ডিজিটাল দুনিয়ারও ‘মেরুদণ্ড’, যা ভাঙলে গোটা বিশ্ব কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

হরমুজ় প্রণালীর জলরাশির নীচে বিছানো রয়েছে এক ‘অন্তর্জাল’—‘সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক কেবল’। গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট সংযোগের মেরুদণ্ড এটি। এর উপর নির্ভর করে বিশ্বের অধিকাংশ ডিজিটাল কমিউনিকেশন, আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড কম্পিউটিং ট্রাফিক, ভিডিয়ো কনফারেন্সিং, সমাজমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কর্মকাণ্ড। ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল হাবগুলোর সঙ্গে ভারতেরও যোগাযোগ এই করিডর দিয়েই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলা সংঘর্ষের জেরে বিশ্বের ডিজিটাল পরিকাঠামো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বের মূল ইন্টারনেট ট্রাফিক কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট দ্বারা পরিচালিত হয় না। সমুদ্রের তলদেশে বিছানো ফাইবার অপটিক কেবল মারফত সংযুক্ত থাকে। এই কেবলগুলোর উপর নির্ভর করে ইমেল পাঠানো, আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড ডেটা, ভিডিয়ো কল। ভারতের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপক ভাবে এই সাবমেরিন কেবলগুলোর উপরে নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ভাবে সমুদ্রের তলদেশে থাকা এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমুদ্রে নীচে বিস্ফোরণ কিংবা কোনও জাহাজ দুর্ঘটনা, কেবলগুলোর ক্ষতি করতে পারে। কোনও একটি কেবলও যদি কাটা পড়ে, ইন্টারনেট ট্রাফিক ভেঙে পড়তে পারে। এই ইন্টারনেট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শেষ বার যখন এই অঞ্চলে কেবল ভেঙেছিল, ১৭ শতাংশ এশিয়া-উপসাগরীয় ইন্টারনেট ট্রাফিক বিপদের মুখে পড়েছিল। কোনও দুর্ঘটনাবশতও যদি কেবলগুলি বিপর্যস্ত হয়, তা মেরামতি করতে পারে একমাত্র বিশেষ সুবিধাযুক্ত কিছু জাহাজ। যুদ্ধ চললে সে সব করাও বেশ মুশকিল হবে। নিরাপত্তার কারণেই ২০২৫-এর অক্টোবর মাস থেকে এ ধরনের বিশেষ জাহাজ ওই অঞ্চলে যেতে পারেনি। এই কাজে যুক্ত এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘মেরামতির কর্মকাণ্ড বেশ কষ্টসাধ্য, খরচসাপেক্ষ। বহু মাস সময় লেগে যেতে পারে।’’

সংবাদ সংস্থা

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Strait of Hormuz

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy