Advertisement
E-Paper

‘ইরাক, আফগানিস্তান ছেড়ে পালাতে হয়েছিল, এখানে এলেও তেমনটাই হবে’, ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

আর্থিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি এবং অপ্রতুল সরকারি পরিষেবার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহখানেক ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ইরানে। পশ্চিম এশিয়ার ওই দেশে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও রয়েছেন এক নিরাপত্তাকর্মী।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫
(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কড়া ভাষার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাব দিল ইরান। সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সিনিয়র সহকারি আলি শামখানি ইরান এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, ‘‘ইরানে নাক গলাতে এলেও এমনই পরিণতি হবে।’’

আর্থিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি এবং অপ্রতুল সরকারি পরিষেবার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহখানেক ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ইরানে। পশ্চিম এশিয়ার ওই দেশে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও রয়েছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। আহত অন্তত ২০ জন। বিক্ষোভ দমাতে ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে। অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তা হলে চুপ করে বসে থাকবে না আমেরিকা।

রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি লোর্ডেগান, কুহদাশত এবং ইসফাহান-সহ একাধিক অঞ্চল শুক্রবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের নিশানায় খামেনেইও। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের সময় ক্ষমতাচ্যুত শাসক শাহ মহম্মদ রেজ়া পাহলভির পুত্র রেজ়া পাহলভির সমর্থনে ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’ স্লোগান তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। সমাজমাধ্যমে ইরানের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন আমেরিকায় নির্বাসিত পাহলভি। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘‘যত দিন এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকবে। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। জয় আমাদের হবেই, কারণ আমাদের দাবি ন্যায্য।’’

পাহলভি বরাবরই আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। ফলে বিক্ষোভের নেপথ্যে ওয়াশিংটনের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের। সংঘাতের এই আবহে ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লেখেন, ‘‘যদি ইরান নিরীহ বিক্ষোভকারীদের নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে, যেটা তাদের রীতি, তা হলে আমেরিকা তাদের বাঁচাতে আসবে। আমরা তৈরি রয়েছি। প্রয়োজনে আমরা যেতেও প্রস্তুত।’’ তাঁর ওই মন্তব্য স্পষ্টতই ইরানে সেনা পাঠানোর হুমকি বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। তার জবাবে ইরাক এবং আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়ে সমাজমাধ্যমে শামখানি লিখেছেন, ‘‘ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা একটি লাল রেখা। যা লঙ্ঘন করা দুঃসাহসিক কাজ। আমেরিকা যেন তার সেনাদের প্রতি নজর দেয়।’’

ঘটনাচক্রে, ঠিক দেড় দশক আগে ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে তড়িঘড়ি সেনা প্রত্যাহার করেছিল পেন্টাগন। পাঁচ বছর আগে একই ভাবে প্রায় ১০ লক্ষ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তালিবানের জন্য ফেলে রেখেই ইরানের আর এক পড়শি আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটিয়েছিল মার্কিন ফৌজ। প্রসঙ্গত গত এক দশকে মূল্যবৃদ্ধি, খরা, নারী অধিকার, হিজাব বিরোধিতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কিত একের পর এক বিক্ষোভ কড়া হাতে দমন করেছে ইরান সরকার। অনেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মদতের অভিযোগ তুলেছেন খামেনেইয়ের দেশ।

Donald Trump Ayatollah Ali Khamenei Iran USA Iran Protest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy