Advertisement
E-Paper

আমাদের সেনার আঙুল ট্রিগারে রাখা আছে! ট্রাম্প হুমকি দিতেই পাল্টা হুঙ্কার দিল ইরান, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সুর চড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। চাপ দিচ্ছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়েও। এ বার পাল্টা হুমকি দিয়ে রাখল ইরানও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০০
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকা কোনও রকম হামলা চালালে তার জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে ইরান। উত্তেজনার মাঝে ফের তা স্পষ্ট করে দিল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচির কথায়, তাঁদের সামরিক বাহিনী ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছে। যদিও সরাসরি আমেরিকা বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামোল্লেখ করেননি তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সুর চড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। চাপ দিচ্ছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়েও। সম্প্রতি ইরানে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন তিনি। আমেরিকার রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনও পৌঁছে গিয়েছে পশ্চিম এশিয়া লাগোয়া সমুদ্রে। এ অবস্থায় ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান তৈরি। তবে সেই চুক্তিতে যেন কোনও পক্ষপাতিত্ব না থাকে। আর যদি ইরানের উপরে কোনও হামলা হয়, তবে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে তেহরানের সামরিক বাহিনী।

সমাজমাধ্যমে আরঘচি লেখেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি রয়েছে। ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছে তারা। আমাদের ভূখণ্ডে, আকাশ বা জলসীমায় কোনও ধরনের হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে জোরালো জবাব দেবে তারা।” একইসঙ্গে তিনি এ-ও লেখেন, “উভয় পক্ষেরই সুবিধা হবে এমন কোনও ন্যায্য এবং পক্ষপাতহীন পরমাণু চুক্তিকে ইরান সবসময় স্বাগত জানায়। তবে এই চুক্তিতে যেন দু’পক্ষেরই সমান সুবিধা হয়। এবং, সেখানে যেন কোনও জোরজবরদস্তি, হুমকি বা ভয় দেখানোর ব্যাপার না থাকে।” ইরানের বিদেশমন্ত্রী ফের দাবি করেছেন, তাঁরা কোনও পরমাণু অস্ত্র বানাতে চান না। কিন্তু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে এবং চুক্তিতে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বস্তুত, এই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে কেন্দ্র করেই গত বছর সংঘর্ষ জড়িয়েছিল ইরান এবং ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুদের সন্দেহ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। একই সন্দেহ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। এই সন্দেহ থেকেই গত বছরের সংঘর্ষের সময়ে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়ে। তারাও বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়।

এরই মধ্যে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন রণতরী। এই ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন যুদ্ধবিমানও বহন করতে পারে। যুদ্ধবিমান ওঠানামা করার জায়গা রয়েছে এই রণতরীতে। ঘটনাচক্রে, তার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তিনি একটি ‘বড় নৌবহর’ পাঠাচ্ছেন পশ্চিম এশিয়ায়। এরই মধ্যে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির জন্য ইরানের উপর চাপ তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় বসার জন্য ইরানের হাতে আর বেশি সময় নেই। তার পরেই আমেরিকার নাম না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।

US Iran Donald Trump Ayatollah Ali Khamenei
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy