চিনের উইঘুর মুসলিমদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ ‘ফাঁস’ করেছিলেন। প্রকাশ্যে এনেছিলেন শিংজিয়াং প্রদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিডিয়ো। সেই চিনা নাগরিককে অবশেষে আশ্রয় দিল আমেরিকা।
গুয়ান হেং নামে ওই চিনা নাগরিক ২০২০ সালে শিংজিয়াং প্রদেশে বিভিন্ন বন্দিশালার দৃশ্য গোপনে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। এই বন্দিশালাগুলিতে ১০ লক্ষের বেশি উইঘুরকে আটক করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বন্দিশালার ওই ভিডিয়ো ‘ফাঁস’ করার পরে আমেরিকায় পালিয়ে আসেন তিনি। ২০২১ সালে অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেন। আমেরিকায় আশ্রয় পাওয়ার আবেদনও করেন।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও সরকারি ভাবে আমেরিকায় আশ্রয় পাচ্ছিলেন না গুয়ান। এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির জেরে গত বছরের অগস্টে গ্রেফতারও হন তিনি। তাঁকে উগান্ডায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের। তবে আমেরিকার সাধারণ জনতাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। শেষে গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁকে উগান্ডায় পাঠানো হয় তাঁকে। অবশেষে সেই চিনা নাগরিককে আমেরিকায় থাকার অনুমতি দিল ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
গুয়ান শিংজিয়াঙের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বন্দিশালার ওই ভিডিয়োগুলি ক্যামেরাবন্দি করেন। তবে বেশির ভাগ ভিডিয়োই চিন থেকে পালানোর পরে ফাঁস করেছিলেন তিনি। চিন থেকে পালিয়ে গুয়ান প্রথমে যান হংকঙে। তার পরে ইকুয়েডর, বাহামাস হয়ে শেষে ফ্লোরিডায় পৌঁছোন। বস্তুত, আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, নেদারল্যান্ডস-সহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে উইঘুর মুসলিমদের উপরে চিনে অত্যাচারের অভিযোগে সরব হয়েছে।