প্রথম দফার পর, গত বৃহস্পতিবারও ভেস্তে গিয়েছিল ইরান এবং আমেরিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি আলোচনা। তার পর থেকেই দু’দেশের সংঘর্ষবিরতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল ঘোর সংশয়। জানা গিয়েছিল, পাকিস্তানের অনুরোধে সংঘর্ষবিরতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ঠিক এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, সব ঠিকঠিক থাকলে আজ রাতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর সঙ্গে থাকবে ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও। এ দিন রাতে তাঁর পাকিস্তান সফরের কথা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন খোদ আরাঘচিই। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক দিনে পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান এবং রাশিয়া সফরও সারবেন তিনি।
অন্য দিকে, এই মুহূর্তে ইসলামাবাদেই রয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাসভাজন একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান— প্রকাশ্যে না বললেও, চূড়ান্ত বৈঠকে বসার আগে নিজেদের দাবি-দাওয়াগুলি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা সেরে নিতে চাইছে তেহরান। সেই কারণেই এই সফর। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার পথ খোলা রাখলেও, তেহরানের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরান উপকূলে এসে পৌঁছেছে আমেরিকার নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। আব্রাহাম লিঙ্কন এবং জেরাল্ড আর ফোর্ডের পর এই নিয়ে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ইরান উপকূলে মোতায়েন করল আমেরিকা।
তেহরানের উপর চাপ বাড়িয়ে এ দিন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচির পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি বৈঠক সফল কেন হচ্ছে না, এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারেই উদ্বিগ্ন নন। লক্ষ্যণীয় ভাবে, ইরানের উপর পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে এ দিন মুখ খুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘না, আমি ওটা ব্যবহার করব না। পরমাণু অস্ত্র আসলে এমন একটা বিষয়, যেটা কারও উপর ব্যবহার করা উচিত নয়।’’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক ল্যারি জনসন দাবি করেছিলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা সময় তেহরানের উপর পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু আমেরিকান সেনার এক শীর্ষকর্তা ট্রাম্পের সেই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করেন। অনেকের মতে, পুরো ঘটনার সাফাই দিতেই এ দিন এই মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, হরমুজ় প্রণালীর আশপাশের ভূখণ্ডে ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’-এর ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি আমেরিকান নৌসেনা। যাতে সেগুলি থেকে প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলিতে আক্রমণ চালাতে না পারে ইরান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)