ক্ষিপ্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাতে উঠেছে অ্যাসল্ট রাইফেল। গায়ে কালো পোশাক। চোখে রোদ চশমা। প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণের ছবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়ে নিজেকে সাজিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ভয় দেখাচ্ছেন ইরানকে।
আজ নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান একসঙ্গে সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না। তারা জানেই না কী ভাবে একটি পরমাণু-মুক্ত ব্যবস্থার চুক্তি করতে হয়। তাদের অবিলম্বে উচিত বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া। ভালমানুষির সময় শেষ’। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি আর একটি পোস্ট করেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘ইরান চায় আমরা দ্রুত হরমুজ় প্রণালী খুলে দিই। এমন একটা সময়ে, যখন তারা নিজেদের নেতৃত্বকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার ধারণা, সেটা তারা পারবে’। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, অন্যান্য বারের তুলনায় ট্রাম্পের এ বারের ভাষা অপেক্ষাকৃত নরম। পোস্টে তিনি কোনও কটূ শব্দ ব্যবহার করেননি। যা অতীতে একাধিক বার করেছেন। তবে শান্তি চুক্তি বা শান্তি বৈঠকে দেরি হওয়ার হতাশা স্পষ্ট।
এরই মধ্যে আজ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ফোনে কথা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাস এক্স-এ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে দু’পক্ষের। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ট্রাম্প সম্প্রতি ভারত সম্পর্কে একাধিক বার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার পর থেকে আমেরিকা সম্পর্কে পুরনো নমনীয়তা বাদ দিয়ে কৌশলগত বিভিন্ন পদক্ষেপ শুরু করেছে বিদেশমন্ত্রক।এটি তারই অঙ্গ।
ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল। পাকিস্তান তাদের মধ্যে শান্তি বৈঠকে মধ্যস্থের ভূমিকা পালন করলেও ইসলামাবাদে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠক করানোর চেষ্টা হলেও দু’পক্ষকে বসানোই যায়নি। কোনও পক্ষই ইসলামাবাদে যায়নি। তবে মাঝে আরাঘচি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। বৈঠক করেছিলেন সে দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে। এরই মধ্যে আজ হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আট সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের খরচের হিসাব দিয়েছেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। মূলত গোলাবারুদে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে হেগসেথের বক্তব্য, ইরান যাতে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়, তার জন্য আমেরিকা চাপ বজায় রাখবে। গত বছর তাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এর আগে এক বৈঠকে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স অভিযোগ করেছিলেন, পেন্টাগন ট্রাম্পের সামনে যুদ্ধের অবস্থা সম্পর্কে যা দাবি করছে, বাস্তব তা নয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)