নিজের দেশের দিকে মনোযোগ দিন! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘উপদেশ’ দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদেরও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, দেশের মধ্যে থেকে কেউ যদি বিদেশি শক্তির হয়ে ‘ভাড়াটে সৈন্যের’ কাজ করে, তবে তা সহ্য করবে না ইরান!
গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারেরা দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। প্রাথমিক ভাবে দেশের আর্থিক অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চললেও ক্রমে তা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিক্ষোভে পরিণত হয়। ইতিমধ্যেই সেনা-পুলিশের হামলায় ইরানে ৩৬ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা চলবে না। বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা (ইরান প্রশাসন) মানুষ মারতে শুরু করে, তা হলে আমরা তাদের উপর খুব কঠিন আঘাত হানব।”
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই মুখ খুললেন খামেনেই। শুক্রবার তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনি নিজের দেশের দিকে মনোযোগ দিন!’’ খামেনেইয়ের পরামর্শ, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ভাবা উচিত ট্রাম্পের। একই সঙ্গে নিজের দেশের বিক্ষোভকারীদেরও সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। শুক্রবার খামেনেই বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীরা অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য নিজেদের পথ ধ্বংস করছেন।’’ দেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার নিজের বক্তৃতায় দফায় দফায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন খামেনেই। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, ট্রাম্পকে ‘অহঙ্কারী’ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে রয়েছে। খামেনেই দাবি করেন, ট্রাম্পের পতন হবেই! তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিক্ষোভের মুখে পিছপা হবেন না।
গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইরান। সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র)। সে দেশের জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দেন তিনি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে যুবরাজ পাহলভি খামেনেই প্রশাসনকে তোপ দাগেন। তিনি লেখেন, “লাখ লাখ ইরানবাসী আজ স্বাধীনতা চেয়ে মিছিল করেছেন। তার জবাব দিতে প্রশাসন ইরানে যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।” তার পরেই খামেনেই ইরানে চলমান অস্থিরতা নিয়ে বার্তা দেন।