উৎসবের সুর চাপা পড়ল মৃত্যুর হাহাকারে। তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম শহর গাজিয়ানতেপের একটি বিয়ের আসরে আত্মঘাতী হামলা চালাল জঙ্গিরা। শনিবার রাতের ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৫০। গুরুতর জখম বহু। প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে জখম ব্যক্তিদের সরাতে কাজে নেমে পড়েছে অন্তত পক্ষে ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স। এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের দাবি, এর পিছনে আইএসের হাত রয়েছে।
গত কাল গাজিয়ানতেপের রাস্তায় বসেছিল বিয়ের আসর। তুরস্কের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় এ ভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। আসরে মূলত জমায়েত হয়েছিলেন কুর্দরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা ছিলেন তারা। অনুষ্ঠানের ভিড়ে মিশে এসেছিল জঙ্গিরা। বিয়ের আসরেই বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের দলের সদস্যেরা ছিলেন। ছিলেন তাঁদের পরিবারের শিশুসন্তান ও মহিলারা। হামলায় আহত হয়েছেন নবদম্পতিও। তাঁদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হামলার পর ভি়ডিওতে দেখা গিয়েছে, অন্ধকার রাস্তায় জখম মানুষজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে।
গৃহযুদ্ধে দীর্ণ সিরিয়ার শহর আলেপ্পো থেকে মাত্র ৯৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে গাজিয়ানতেপ। গত কালের হামলার পর এরগোদান দাবি করেন, সরকারের শত্রু হিসেবে মার্কিন আশ্রয়ে থাকা ফেতুল্লাহ গুলেন তো রয়েছেনই। গুলেনের মতোই পড়শি দেশ সিরিয়ায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিস এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে সরকারের প্রধান শত্রু তালিকায় রেখেছেন এরদোগান। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন জাতি-উপজাতিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্যই এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে শত্রুরা।
আরও পড়ুন