E-Paper

পাট নিয়ে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ কেন্দ্রের

আইজেএমএ কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছিল, মধ্যস্থতাকারীরা পাট মজুত করায় কুইন্টাল প্রতি দাম ১৩,৫০০ টাকায় ওঠে। তাই জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া চাষিদের থেকে পাট কিনে চটকলে পাঠাক। সূত্রের খবর, এই চিঠিতেই সতর্ক হয় ফড়েরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৯

— প্রতীকী চিত্র।

দেশে পাটের ঘাটতি তার দাম বিপুল বাড়িয়েছে। বিপাকে পড়েছে চটশিল্প। কোনও চটকল কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন কমাচ্ছে। কেউ খরচের কারণে মিল বন্ধ করছে। কাজ হারাচ্ছেন হাজার হাজার কর্মী। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক। যার অন্যতম পাট মজুতে কড়াকড়ির পাশাপাশি চটের বস্তার দাম বৃদ্ধি। তবে একাংশের দাবি, পাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী বা ফড়েদের বাজার থেকে ছেঁটে না দিলে কাজের কাজ কতটা হবে সন্দেহ থাকছে। ইতিমধ্যেই এই দাবি জানিয়েছে চটকলগুলির সংগঠন ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইজেএমএ)। বিশেষজ্ঞেরা অবশ্য মনে করছেন, চটশিল্প মোদী সরকারের এখন অন্যতম মাথাব্যথা। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বহু চটকল কর্মী কাজ হারাচ্ছেন। সেখানে বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্র এই অবস্থা বহাল থাকার ঝুঁকি হয়তো নেবে না। যে কারণে তড়িঘড়ি মাঠে নেমেছে। ফলে আগামী দিনে আরও কিছু সিদ্ধান্তনেওয়া হতে পারে।

আইজেএমএ কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছিল, মধ্যস্থতাকারীরা পাট মজুত করায় কুইন্টাল প্রতি দাম ১৩,৫০০ টাকায় ওঠে। তাই জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া চাষিদের থেকে পাট কিনে চটকলে পাঠাক। সূত্রের খবর, এই চিঠিতেই সতর্ক হয় ফড়েরা। বাজারে পাট ছাড়ে একাংশ। এতে দাম কিছুটা কমে হয়েছে প্রায় ১২,৬০০ টাকা। তবে এই অংশকে পুরোপুরি বিলোপ না করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া কঠিন, মত বিশেষজ্ঞদের।

পাটের সমস্যা মেটাতে কেন্দ্রের নির্দেশ—

  • পাটের মজুতদারি কমাতে জুট বেলাররা সর্বোচ্চ ১২০০ কুইন্টালের বেশি মজুত করতে পারবেন না। অন্য নথিভুক্ত মজুতদারদের ক্ষেত্রে তা ২৫ কুইন্টাল এবং নথিভুক্ত না হলে ৫ কুইন্টাল। উল্লেখ্য, চাষি এবং বেসরকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাট কিনে বেলাররা তা চটকলকে দেয়।
  • চটকল বস্তা বানাতে ৪৫ দিনের পাট মজুত করতে পারবে।
  • খাদ্যশস্য (১০০%) এবং চিনি (২০%) ভরতে কেন্দ্র চটের বস্তা কেনে। তারা এ জন্য চটকলগুলিকে এখন থেকে বেশি টাকা দেবে। বস্তা পিছু ৮০.২০ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের অবশ্য দাবি, কেন্দ্র এই সব পদক্ষেপ করে কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না। কারণ, পাটের দাম বাড়লে বস্তার দাম বৃদ্ধিই নিয়ম। শুল্ক কমিশনের সুপারিশ অনুসারে তা হয়। তা ছাড়া, যে কোনও জিনিসে মজুতদারি বা কালোবাজারি নিয়মবিরুদ্ধ। বরং সরকার এত দিন কেন তাতে রাশ টানেনি, সেটাই প্রশ্ন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jute Products high price Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy