ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপর নজরদারি চালাতে ইজ়রায়েলের ট্রাফিক ক্যামেরা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক হ্যাক করেছিল ইজ়রায়েল! একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করা হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ফিনানসিয়াল টাইম্স’-এর একটি প্রতিবেদনে।
ইজ়রায়েলের বেশ কয়েক জন বর্তমান এবং প্রাক্তন গোয়েন্দা আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ক’টি ট্রাফিক ক্যামেরার উপর নজর রাখা হয়েছিল। দু’টি সূত্রের দাবি, কয়েক বছর ধরে ট্রাফিক ক্যামেরার ফুটেজ গোপনে চলে যাচ্ছিল ইজ়রায়েলের তেল আভিভে থাকা সার্ভারে। এই ভাবেই খামেনেইয়ের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছিলেন ইজ়রায়েলের গোয়েন্দারা।
প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটে খামেনেইয়ের দফতরের নিকটবর্তী একটি ট্রাফিক ক্যামেরা ইজ়ারায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল। ওই ক্যামেরায় নজর রেখেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দেহরক্ষীদের গতিবিধি, তাঁদের গাড়ি রাখার জায়গা, এমনকি দৈনন্দিন কাজ সম্পর্কে অবহিত হয়েছিল ইজ়রায়েল। তেহরানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ফোন-কথোপকথন জানতে সে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কও হ্যাক করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে ‘ফিনানসিয়াল টাইম্স’-এর প্রতিবেদনে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইজ়রায়েল বা ইরান আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেনি।
শনিবার সকাল থেকে ইরানে আক্রমণ শুরু করে ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, আমেরিকার সেনাও হামলায় সহায়তা করছে। শনিবার রাতেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারও বেশ কিছু সময় পরে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেয় তেহরান। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থার তরফে বলা হয়, ‘‘হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।’’ খামেনেইয়ের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বিবৃতিতে লেখা হয়, ‘‘সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাই।’’