বৈঠকে বসেছিল চিন ও পাকিস্তান। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে কাশ্মীর ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গও। বৈঠকে চিন ও পাকিস্তানের বার্তা, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কোনও একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে তারা। গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে চিন,পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রীদের আলোচনাতেও।
বৈঠকের পরে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শনিবারের বৈঠকে ‘নয়া প্রস্তুতি’-র কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে চিন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ‘নতুন ফল’ পেতে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পাক-চিন যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে। স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে কোনও একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতার কথা নেওয়া হয়। অমীমাংসিত বিষয়গুলিকে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নোওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেও জানানো হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানের অবস্থান ও ওই অঞ্চলে উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়েছে বেজিংকে। ‘ঐতিহাসিক বিরোধ’ মেটাতে জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়েছে চিনের তরফে।
বিবৃতিতে সিন্ধু জলশক্তি ও ভারতের কথা উল্লেখ না থাকলেও আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক চাহিদা’ পূরণের জন্য দুই দেশের পারস্পরিক সমতা ও উপকৃত হওয়ার কথা উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন:
চিন ও পাকিস্তানের আলোচনায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে।
তাইওয়ান, তিব্বতের জিজাং, হংকং ও দক্ষিণ চিন সাগর ইস্যুতে ‘চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ দাবি করে বেজিংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। পাল্টা চিনও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অভিযোগ কাবুল টিটিপি ও বালোচ জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার। আফগানিস্তানে জঙ্গি দাবির ইস্যুতে ‘বন্ধু’ পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছে চিন। আফগানিস্তানের মাটিতে জঙ্গী নির্মূল করার দাবি জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেই দাবিকেই সমর্থন করেছে চিন। বিবৃতি অনুযায়ী, পাক-চিন ‘নিবিড় যোগাযোগ’ রেখে আফগানিস্তানের সরকারকে রাজনৈতিক পরিকাঠামো, নীতির সংস্কার ও উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে। প্রসঙ্গত, কাবুলের পক্ষ থেকে জঙ্গি সংগঠন সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জঙ্গি মোকাবিলায় পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ইস্যুতে ইসলামাবাদের প্রশংসা করার পাশাপাশি পাকিস্তানে অবস্থিত চিনের কর্মী, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যও পাক-ভূমির প্রশংসা করেছে বেজিং।
চিন-পাক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উৎসবের প্রতীক হিসাবে কাজ শুরু করার ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পনার বাস্তবায়নে দুই দেশের অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নততর সংস্করণ ‘২.০’- বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।